প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যজুড়ে লাগাতার বৃষ্টি ও বর্ষার দাপটে ভেঙে পড়া রাস্তাঘাট নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল, ২৪ আগস্ট ২০২৬ (সোমবার), বেহাল রাস্তার দ্রুত সংস্কার এবং আমজনতার ভোগান্তি দূর করতে এক বিশাল ঘোষণা করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামত সম্পন্ন করতে হবে। পুজোর ঠিক আগেই এই কাজ শেষ করার জন্য প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রাস্তা সংস্কারের প্রস্তুতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির সঙ্গে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরে ফেলেছেন।
গতকাল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, “সব সারিয়ে দেব। ১০ অক্টোবরের মধ্যে সারিয়ে দেব। আমি আলাদা আলাদা ভাবে তিনটে গ্রুপ মিটিং করে নিয়েছি। পিডব্লুডি-র (PWD) সঙ্গে করে নিয়েছি ২ বার। তাদের অর্থ স্যাংশন (অনুমোদন) হয়ে গিয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বিবৃতির পর স্পষ্ট যে, রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ইতিমধ্যেই বরাদ্দ করে দিয়েছে নবান্ন।
রাস্তা মেরামতের কাজ যাতে দ্রুত এবং সুনির্দিষ্টভাবে হয়, তার জন্য দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামীণ এলাকার ৩,২০০টি রাস্তা দ্রুত সারানোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পঞ্চায়েত দফতরকে। পুরসভা বা শহর এলাকার সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দ্রুত সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নগরোন্নয়ন দফতরকে।
রাস্তা তৈরির কৌশল নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই বর্ষার মধ্যে পিচের কাজ করলে তা ধুয়ে যাবে এবং সরকারি অর্থের অপচয় হবে। তাই ইঞ্জিনিয়ারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আপাতত শুধু গর্তগুলো মেরামত (Patchwork) করে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করতে হবে। এরপর পুরোপুরি বর্ষার দাপট কমলে তখন স্থায়ীভাবে মূল পিচের ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, “১০ অক্টোবর ডেডলাইন দিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব এক্সিসটিং রোড (বিদ্যমান রাস্তা), মোর অর লেস, মিটে যাবে। চিন্তা করবেন না।” পুজোর মুখে মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি হস্তক্ষেপ ও যুদ্ধকালীন তৎপরতার নির্দেশ রাজ্যবাসীর ক্ষোভে অনেকটাই প্রলেপ দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
