প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন’ (SIR) ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচির পাল্টা দিতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) উত্তরবঙ্গ সফরের শুরুতে শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট, রাহুল গান্ধী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় রাজ্যের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার প্রশংসা করেন।
বিগত জমানার নির্বাচনগুলির হিংসাত্মক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বর্তমান জমানার অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনার খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এবারের বিধানসভা ভোটে রাজ্যে ৯০ হাজারের বেশি বুথ ছিল, কিন্তু একটা বুথেও পুনর্নির্বাচন করতে হয়নি। সবচেয়ে বড় কথা, রাজ্যে কোনও নির্বাচনে একটাও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এটা প্রথমবার হয়েছে, যেখানে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে মানুষ নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।”
দিল্লির রামলীলা ময়দানে জ্ঞানেশকাণ্ডে বিরোধীদের মেগা সমাবেশকে কড়া ভাষায় বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধী জোট আসলে ভুয়ো ভোটার ও অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। তিনি বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, “দেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ কারীদের চিহ্নিত করে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য কেন্দ্র সরকার এবং ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) যে পদক্ষেপ নিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধী একজোট হয়ে তার বিরোধিতা করছেন। তারা আসলে অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে বাঁচিয়ে রাখতে চান।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও কটাক্ষ করে বলেন, দিল্লির রামলীলা ময়দানের সমাবেশে যারা বড় বড় ভাষণ দিচ্ছেন, সেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলার মানুষ এতটাই প্রত্যাখ্যান করেছে যে দুর্গোৎসবে একটাও পুজো উদ্বোধনের জন্য কেউ তাঁকে আমন্ত্রণ জানায়নি। নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি বলে সমর্থন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, রাজ্যে কোনওভাবেই বেআইনি ভোটারদের স্থান দেওয়া হবে না এবং প্রশাসন এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে। উত্তরবঙ্গে আজ একাধিক সরকারি ও দলীয় কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
