প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা’ নিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরবাসীকে বিরাট সাফল্যের খতিয়ান দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল (বুধবার) বালুরঘাটে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই তথ্য প্রকাশ করেন। দুই দিনাজপুরের বঞ্চনা দূর করার পাশাপাশি নারীদের স্বনির্ভরতার ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, “এই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতেই ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষের বেশি মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন এবং সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।”
বালুরঘাটের প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী কেবল অন্নপূর্ণা যোজনাই নয়, বরং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের একাধিক জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ান আকারে তুলে ধরেন। জেলার ৩ লক্ষের বেশি যোগ্য মহিলা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাচ্ছেন। সেপ্টেম্বর মাসের টাকাও নির্দিষ্ট সময়ে (দ্বিতীয় সপ্তাহে) উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলার ১৩,০০০ মানুষ ইতিমধ্যেই গ্রামীণ আবাসের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়ে গিয়েছেন, যার মাধ্যমে পাকা বাড়ি তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী শক্তির লক্ষ্যে জেলার ৫০১টি পরিবারকে বিনামূল্যে সোলার প্যানেল দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রায় ১১ লক্ষ মানুষ ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এবং ৫ লক্ষ টাকার ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা কার্ড’ পেয়ে গিয়েছেন, যা নিখরচায় চিকিৎসার বড় ঢাল। গ্রামীণ কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করতে জেলায় অতিরিক্ত ৮১,০০০ নতুন জব কার্ড ইস্যু করা হয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার স্ক্রুটিনি বা ভেরিফিকেশন নিয়ে গ্রামীণ এলাকায় তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ৩টি কক্ষ বিশিষ্ট পাকা বাড়ি থাকলেই গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না, গ্রামীণ ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিল করা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবী ও আয়কর দাতা বাদে সমস্ত যোগ্য এবং প্রকৃত অভাবী মহিলারাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। কোনো যোগ্য নারী যাতে বাদ না পড়েন, তার জন্য জেলা প্রশাসনকে প্রতিনিয়ত স্ক্রুটিনির কাজ নির্ভুলভাবে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
