প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ঘড়ির কাঁটা যত এগোচ্ছে, বালুরঘাটে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা স্থানীয় সাংসদ ড. সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে উত্তেজনা এবং ব্যস্ততা ততটাই তুঙ্গে উঠছে। আজ বুধবার সকালে বালুরঘাটে পা রাখার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন একদিকে ঠাসা প্রশাসনিক কর্মসূচী, বিমানবন্দর পরিদর্শন ও মেডিক্যাল কলেজের শিলান্যাস নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই সুকান্ত মজুমদারের বাড়িতে চলছে শেষ মুহূর্তের এলাহি আয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর দক্ষিণ দিনাজপুরে শুভেন্দু অধিকারীর এটিই প্রথম সফর। আর দুপুরে সুকান্তর বাড়িতে তাঁর এই হাইপ্রোফাইল মধ্যাহ্নভোজ (Lunch)-কে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী এখনও সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে এসে পৌঁছাননি, তবে রান্নাঘরে রান্নার সুগন্ধ ছড়াতে শুরু করেছে। কোনো পাঁচতারা হোটেলের জাঁকজমক বা ক্যাটারিং নয়, বরং সম্পূর্ণ ঘরোয়া ও ঐতিহ্যবাহী উত্তরবঙ্গের স্পেশাল পদ সাজানো হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য। সংবাদমাধ্যম ও পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত একেবারে সঠিক মেনু তালিকা। প্রথম পাতে: গরম ভাতের সঙ্গে ঘি এবং বালুরঘাটের বিখ্যাত স্পেশাল রাইখর মাছ ভাজা ও ময়া মাছের চড়চড়ি। খাঁটি বাঙালি আবেগের ইলিশ মাছ এবং ঐতিহ্যবাহী কাতলা মাছের পদ। মাছের পাশাপাশি থাকছে বিশেষ কায়দায় রান্না করা দেশি মুরগির মাংসের ঝোল এবং খাসির মাংস। শেষ পাতে: ঝাল-মিষ্টি চাটনি, পাপড়, নরম রসগোল্লা এবং অবশ্যই উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত নয়াবাজারের মিষ্টি দই।
অনেকেরই ধারণা ছিল এটি হয়তো শুধু দুই রাজনৈতিক সতীর্থের একান্তে খাওয়া-দাওয়া। কিন্তু প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে এই মেগা মধ্যাহ্নভোজে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে উপস্থিত থাকছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখার্জি। অর্থাৎ, দুপুরের লাঞ্চ টেবিল থেকেই বালুরঘাট তথা উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন পরিকাঠামোর এক বড়সড় রূপরেখা তৈরি হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছানোর অনেক আগে থেকেই সুকান্তর বাড়ির বাইরে ও গলির মুখে ভিড় জমিয়েছেন শয়ে শয়ে সাধারণ মানুষ ও দলের কর্মীরা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই লাঞ্চকে নিছক খাওয়া-দাওয়া হিসেবে দেখছেন না। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার থাকার সুবাদে, কীভাবে উত্তরবঙ্গের বকেয়া প্রকল্পগুলিকে দিল্লির দরবার থেকে আরও দ্রুত ছাড়িয়ে আনা যায়—তারই এক অলিখিত স্ট্র্যাটেজি তৈরি হবে এই লাঞ্চ টেবিলে। দুপুর গড়ালেই সুকান্ত মজুমদারের সদর দরজায় এসে থামবে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়, আর তারপরেই শুরু হবে রাজ্য রাজনীতির এই বহুচর্চিত মধ্যাহ্নভোজ।
