Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মমতার দুর্গে গেরুয়া সুনামি! ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে শপথ নিয়ে রাজপথে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ শুভেন্দু, নজিরবিহীন মেগা রোড শো-তে জনজোয়ার!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনৈতিক পালাবদলের পর এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকলো তিলোত্তমা। ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে BJP-র নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর, আজ বিধানসভায় ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় আসনেই বিপুল ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পর সাংবিধানিক নিয়ম মেনে তিনি আজ নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিয়ে ভবানীপুর আসনটিই নিজের কাছে রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন।

বিধায়ক পদে শপথ নেওয়ার পরেই আজ বিকেলে নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্র ভবানীপুরের ভোটার ও সাধারণ মানুষকে কৃতজ্ঞতা জানাতে এক নজিরবিহীন ‘অভিনন্দন যাত্রা’ বা মেগা রোড শো-তে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা ‘অভেদ্য দুর্গ’ বলে পরিচিত এই ভবানীপুর আসনেই তাঁকে ১৫,১০৫ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৭৩,৯১৭টি ভোট (৫৩.০২%), যেখানে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পেয়েছেন ৫৮,৮১২টি ভোট (৪২.১৯%)। ২০২১ সালের নন্দীগ্রামের পর, ২০২৬-এ ভবানীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে সরাসরি নির্বাচনী দ্বন্দ্বে দ্বিতীয়বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করে রাজনৈতিক মহলে ফের ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করলেন শুভেন্দু।

আজ বিকেলে চেতলা লক গেট থেকে শুরু হয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের বরদান মার্কেট পর্যন্ত এই বিশাল রোড শোটি বিস্তৃত ছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি হুডখোলা গাড়িতে চেপে গোটা এলাকা পরিক্রমা করেন। রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত জোড় করে এবং পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। গোটা এলাকা যেন রূপ নিয়েছিল এক ‘গেরুয়া সমুদ্রে’। চারদিকে ‘শুভেন্দুদা জিন্দাবাদ’ এবং ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা। বিপুল এই উন্মাদনার মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ মার্জিত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছিল। দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে এবং কোনো অনিচ্ছুক নাগরিকের ওপর জোর করে আবির খেলা বা উল্লাস চাপিয়ে দেওয়া না হয়। সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে এই বিজযোৎসব উদযাপিত হয়েছে, যা রাজনৈতিক সৌজন্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিলেন যে, আগামী দিনে কলকাতা তথা দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে ভারতীয় জনতা পার্টি অত্যন্ত মজবুত জমি তৈরি করে ফেলেছে এবং এই রূপান্তর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করলো।

Exit mobile version