Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

তারাতলায় মহা এলাহী কাণ্ড! প্রোটোকল ভেঙে স্কুল পড়ুয়াদের টেবিল-চেয়ারে পাশে বসে দুপুরের আহার সারলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কঠোর প্রোটোকল আর ভিআইপি সংস্কৃতির দেওয়াল ভেঙে আজ এক দারুণ মানবিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। আজ, ১ আগস্ট ২০২৬ (শনিবার) কলকাতার স্কুলগুলিতে ইসকন (ISKCON)-এর মিড-ডে-মিল প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করতে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জনসংযোগের মেজাজে ধরা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাইপ্রোফাইল নিরাপত্তা এবং ভিআইপি সংস্কৃতির খোলস ছেড়ে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সরকারি স্কুলের ক্ষুদে পড়ুয়াদের পাশে সাধারণ চেয়ার-টেবিলে সোজা লাইনে বসে পড়লেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। স্টিলের থালায় খাবার নিয়ে খুদেদের সঙ্গে গল্প করতে করতে সারলেন দুপুরের আহার।

দক্ষিণ-পশ্চিম কলকাতার তারাতলায় ইসকনের সর্বাধুনিক মেগা কিচেনের উদ্বোধনের পরেই মূলত এই অভাবনীয় মুহূর্তটি তৈরি হয়। অনুষ্ঠান মঞ্চের আনুষ্ঠানিকতা ও বিশেষ যজ্ঞ শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি চলে যান আধুনিক ডাইনিং এরিয়াতে, যেখানে তখন সারি দিয়ে বসেছিল কচিকচেরা। তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল ইসকনের তৈরি গরম গরম পুষ্টিকর সাত্ত্বিক অন্ন ও ব্যঞ্জন। সবাইকে অবাক করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে সাধারণ একটি চেয়ার টেনে বসে পড়েন বাচ্চাদের টেবিলের লাইনে।

মুখ্যমন্ত্রীর থালায় আজ সাজানো ছিল ভাত, ডাল, মিক্সড ভেজিটেবল তরকারি এবং পায়েস। খাওয়ার মাঝেই পাশের আসনে বসা খুদে পড়ুয়াদের পরম স্নেহে খাবার খাইয়ে দিতে দেখা যায় তাঁকে। খাবার কেমন হয়েছে, তারা প্রতিদিন স্কুলে কী কী খেতে ভালোবাসে—একেবারে ঘরের অভিভাবকের মতো হেসে হেসে সেই সমস্ত খোঁজখবর নেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীকে এত কাছ থেকে আপন মানুষের মতো পাশে পেয়ে স্বভাবতই আপ্লুত খুদে পড়ুয়ারাও। এই মানবিক ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতেই মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়, যা রাজ্য রাজনীতিতেও এক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

খাওয়ার টেবিল থেকেই রাজ্যের স্কুলগুলির সামগ্রিক মিড-ডে মিল ব্যবস্থা নিয়ে তিনটি অত্যন্ত বড় এবং ইতিবাচক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ইসকন পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক ও হাইজেনিক খাবার দিলেও বাংলার শিশুদের প্রোটিনের পুষ্টি যাতে কম না পড়ে, তাই সপ্তাহে দু’দিন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) মাধ্যমে স্কুলগুলিতে আলাদা করে সেদ্ধ ডিম দেওয়া জারি থাকবে। খুদেদের পাতে যাতে খাবারের গুণমান আরও বাড়ে, তার জন্য প্রাথমিক স্তরে মিড-ডে মিলের সরকারি বরাদ্দ মিল পিছু ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে একধাক্কায় ১০ টাকা করার বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ প্রথম দফায় কলকাতার ৫০০টি স্কুলের প্রায় ৪৪,০০০ পড়ুয়াকে দিয়ে শুরু হলেও আগামী ৩ মাসের মধ্যে গোটা রাজ্যের আড়াই লাখ (২.৫ লাখ) পড়ুয়াকে এই হাই-টেক কিচেনের উন্নত মানের খাবারের আওতায় আনা হবে।

আজকের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বসে আহার করেন ইসকনের শীর্ষস্থানীয় সন্ন্যাসীবৃন্দ, রাজ্যের প্রধান সচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন।

Exit mobile version