প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে অভূতপূর্ব জয়ের পর, এবার রাজ্যের আসন্ন পুরভোটকে পাখির চোখ করে এক বিশাল রাজনৈতিক হুঙ্কার দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) উত্তর কলকাতার মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া এক বিশাল ‘বিজয় মিছিল’ ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখান থেকেই রাজপথে দাঁড়িয়ে শহরবাসীর কাছে এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ডবল ইঞ্জিন’ (কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের সরকার) তত্ত্বের পর, এবার স্থানীয় পুরপ্রশাসনকেও সেই উন্নয়নের জোয়ারে শামিল করতে ‘ট্রিপল ইঞ্জিন’ (Triple Engine) সরকার গড়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।
ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনের বিশাল জনসভা থেকে ভোটারদের উদ্দেশ্যে দুই হাত বাড়িয়ে আবেগঘন বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন: “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথায় আপনারা রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন দিয়েছেন। এ বার মুখ্যমন্ত্রীর কথায় আপনাদের পুরসভাগুলিতে ট্রিপল ইঞ্জিন দিতে হবে। হাওড়া ও কলকাতা পুরসভা আমাদের দিতে হবে, কথা দিন। সব ওয়ার্ডে পদ্ম ফুটবে তো?” মুখ্যমন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে তিনি নন্দীগ্রামে যেভাবে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন, ঠিক একইভাবে আজ কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে কলকাতা এবং হাওড়া পুরনিগমকে তৃণমূলের কবল থেকে মুক্ত করার ডাক দিচ্ছেন।
দুর্গাপূজার মরশুম শেষ হলেই কলকাতা ও হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে ফিরহাদ হাকিমের বিদায়ের পর কলকাতার পুরপ্রশাসন আপাতত কমিশনার দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এই শূন্যস্থান পূরণ করে পুরসভাগুলিতে পদ্ম ফোটানোই এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, রাজ্য সরকার এবং পুরসভার মধ্যে যদি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমন্বয় (অর্থাৎ ট্রিপল ইঞ্জিন) না থাকে, তবে শহরের পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবার আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়।
রেজিনগরের মতো সংখ্যালঘু প্রধান আসনে এবং নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির জয়কে ঐতিহাসিক বলে ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “একটা ধারণা তৈরি করে রাখা হয়েছিল যে, বিজেপি শুধু হিন্দুদের ভোটে নির্বাচিত হয়। একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে ভয় দেখানো হয়েছিল যে বিজেপি এলে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তারা দেখেছে, ভোট না দেওয়া সত্ত্বেও মোদীজির বিজয়রথ আটকানো যায়নি। তাই এখন সবাই মূল স্রোতের উন্নয়নে সামিল হচ্ছে।” বিগত জমানার বিভাজনের রাজনীতিকে সাধারণ মানুষ ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে দাবি করে, নবান্নের পর এবার কলকাতার পুরবোর্ডও যে বিজেপি দখল করতে চলেছে, সেই আত্মবিশ্বাসী বার্তাই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
