প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং আইনশৃঙ্খলার রাজনীতিকরণ রুখতে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পারগনার ডায়মন্ড হারবারে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক ও পুলিশি পর্যালোচনা বৈঠক শেষে তিনি অত্যন্ত বড় ঘোষণাটি করেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ওয়েলফেয়ার বোর্ড” অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া হলো। এই একটিমাত্র বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি রাজ্যে সমান্তরাল রাজনৈতিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কড়া বার্তা দিলেন।
বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে সাধারণ পুলিশ কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা এবং কল্যাণের উদ্দেশ্যে এই বোর্ডটি গঠন করা হলেও, বাস্তবে এর চিত্র ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। অভিযোগ, বিগত শাসকদল এই কল্যাণকারী বোর্ডটিকে তাদের একটি রাজনৈতিক শাখা সংগঠনে পরিণত করেছিল। পুলিশের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতাকে খর্ব করে, প্রশাসনকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থে ব্যবহার করার যে অপচেষ্টা বিগত জমানায় চলেছিল, এই বোর্ড ছিল তারই অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। সাধারণ ও সৎ পুলিশ কর্মীরা যখন দিনের পর দিন নিজেদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন, তখন বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ ও তল্পিবাহক কয়েকজন পুলিশ অফিসার এই বোর্ডকে হাতিয়ার করে অনৈতিকভাবে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি সহ একাধিক ব্যক্তিগত সুবিধা নিচ্ছিলেন।পুলিশ কর্মীদের কল্যাণের নামে আদতে এখানে চলত নির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজ, যা সামগ্রিকভাবে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার মেরুদণ্ডকে দুর্বল করে দিয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ স্পষ্ট ও মার্জিত ভাষায় রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, “আগে রাজ্যে শাসকের শাসন চলত, কিন্তু এখন থেকে শুধুই আইনের শাসন চলবে।” পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত করে সাধারণ মানুষের মনে খাকি পোশাকের প্রতি হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ও ভরসা ফিরিয়ে আনাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। কোনো প্রকার বিতর্ক বা আইনি জটিলতার অবকাশ না রেখেই, সম্পূর্ণ প্রশাসনিক নিয়মনীতি মেনে এই বোর্ড বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওয়েলফেয়ার বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ভোলবদল করতে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে মুখ্যমন্ত্রী আরও কিছু কড়া ও জনমুখী নির্দেশিকা জারি করেছেন। অটো, টোটো কিংবা ফুটপাতের হকারদের থেকে পুলিশের নাম করে বা কোনো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় যেকোনো ধরণের অনৈতিক টাকা তোলা (তোলাবাজি) অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নারী সুরক্ষার পাশাপাশি বাহিনীর মহিলা পুলিশ কর্মীদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি রেখে, তাঁদের পেশাগত ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিজেদের জেলায় (Home District) পোস্টিং দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নদীপথগুলি দিয়ে যেকোনো ধরণের অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ রুখতে পুলিশকে ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের সামগ্রিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে এবং একে আরও আধুনিক ও জনমুখী করতে রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারীর এই আপসহীন এবং সাহসী পদক্ষেপকে রাজ্যের সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে সৎ পুলিশ আধিকারিকরা বিপুলভাবে স্বাগত জানাচ্ছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে পুলিশ বাহিনীতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ দূর হবে এবং প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে কাজ করার স্বাধীনতা ফিরে পাবে।
