প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং এবিভিপি (ABVP) কর্মীদের সাম্প্রতিক দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ক্যাম্পাসের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এক নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্যাম্পাস জুড়ে চলা বিশৃঙ্খলা এবং ‘দেশবিরোধী’ উপাদানের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের বুকে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করতে তাঁর সরকার বিন্দুমাত্র আপস করবে না। গতকাল নবান্ন থেকে যাদবপুরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী ছাত্র ও কর্তৃপক্ষের একাংশকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন তোলেন:“আপনারা কি জানেন যাদবপুরে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বাধা দেওয়া হয়? ওখানে জাতীয় পতাকাকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না।”
মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ক্যাম্পাসের ভেতরে কিছু নির্দিষ্ট শক্তি ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস বা ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদযাপনেও বিরোধিতা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশকে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ এবং জিহাদি তকমা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যমের একাংশ দেশবিরোধীদের সমর্থনে যতই লেখালেখি করুক না কেন, নবান্ন তার নিজের শক্তিতেই কাজ করবে। তাঁর স্পষ্ট এবং সবচেয়ে আলোচিত বার্তাটি ছিল: “আমি পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, যদি এই রাজ্যে বাস করতে হয়, তবে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতেই হবে। এই মুখ্যমন্ত্রী জাতীয়তাবাদ এবং দেশপ্রেমের প্রশ্নে কোনও আপস করবে না। আমরা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এবং বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেই ছাড়ব।”
বামপন্থী ছাত্র নেতাদের ‘লাল বাবু’ বলে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, এই বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমান বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য। তাই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ভারতীয় ঐতিহ্য, সনাতন সংস্কৃতি এবং জাতীয়তাবাদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা হবে।
