Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মুড়িগঙ্গা সেতু নিয়ে বিরাট ঘোষণা! সাগরদ্বীপবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ডেডলাইন দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সুন্দরবন এবং সাগরদ্বীপের লক্ষ লক্ষ মানুষের দীর্ঘ কয়েক দশকের লালিত স্বপ্নের অবসান ঘটতে চলেছে। মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর বহুল প্রতীক্ষিত সেতু নির্মাণ নিয়ে এক ঐতিহাসিক ও চূড়ান্ত সময়সীমা ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে এক মেগা সরকারি প্রশাসনিক ও পরিষেবা প্রদান সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, সাগরদ্বীপকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে আর কোনো বাধা থাকবে না। একই সঙ্গে এই সেতু নিয়ে বিগত সরকারের বছরের পর বছর ধরে চালানো ‘মিথ্যাচার ও প্রতারণা’-র তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

সাগরদ্বীপের বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ভেসেল বা লঞ্চ পরিষেবা। মুড়িগঙ্গা নদীর চড়ায় ভেসেল আটকে ভোগান্তি এই অঞ্চলের নিত্যদিনের চিত্র। এই দুর্ভোগের চিরতরে ইতি টানতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বড় ঘোষণা করে বলেন, “বিগত সরকার মুড়িগঙ্গা নদীর ব্রিজ নিয়ে কেবল সাধারণ মানুষের সঙ্গে বড় বড় কথা আর মিথ্যাচার করেছে। কাজের কাজ কিছুই করেনি। কিন্তু আমাদের সরকার যা বলে, তা করে দেখায়। আমি আজ এই পবিত্র মাটি ছুঁয়ে কথা দিয়ে যাচ্ছি, আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর এই মেগা ব্রিজের কাজ সম্পূর্ণ হবে এবং আমি নিজেই এসে তার শুভ উদ্বোধন করব।”

মুড়িগঙ্গা সেতুর পাশাপাশি সুন্দরবনের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য টাকার কোনও অভাব হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সুন্দরবনকে আমরা অবহেলিত থাকতে দেব না। বিগত সরকার তাদের দীর্ঘ জমানায় সুন্দরবনের জন্য মাত্র ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ টাকাই মাঝপথে চুরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমাদের নতুন বিজেপি সরকার মাত্র ৮ মাসের সংক্ষিপ্ত বাজেটে সুন্দরবন ও গঙ্গাসাগরের আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামো গড়ে তুলতে একধাক্কায় ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।” তিনি আরও জানান, এই বিপুল বরাদ্দের প্রথম দফায় ইতিমধ্যেই ৫৫৩টি বড় উন্নয়নমূলক কাজের বরাত (Work Order) দিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আজ থেকেই তার কাজ শুরু হয়ে যাচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রতি বছর মকর সংক্রান্তিতে দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগর মেলায় আসেন। এই মেলাকে বিশ্ব মানচিত্রে অন্যতম সেরা তীর্থক্ষেত্র ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় নবান্ন। আর সেই মহাপরিকল্পনারই প্রথম স্তম্ভ হলো এই মুড়িগঙ্গা সেতু। এদিন কাকদ্বীপের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী এই অঞ্চলের প্রায় ১ লক্ষ ২৪ হাজার সাধারণ মানুষের হাতে সরাসরি সরকারি পরিষেবা ও সুযোগ-সুবিধা তুলে দেন এবং সুন্দরবনকে একটি সাজানো ‘মডেল এলাকা’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই মুড়িগঙ্গা ব্রিজের নিশ্চিত ডেডলাইন ঘোষণার পর দক্ষিণ ২৪ পরগনা তথা গোটা সাগরদ্বীপ জুড়ে খুশির হাওয়া বইছে। সুন্দরবনবাসী আশাবাদী যে, এবার সত্যিই তাঁদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ব্রিজের স্বপ্ন বাস্তব রূপ পেতে চলেছে।

Exit mobile version