প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিগত তৃণমূল জমানায় পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ প্রশাসনকে কীভাবে পঙ্গু ও ঠুঁটো জগন্নাথ করে রাখা হয়েছিল, আজ মহালয়ার পুণ্যলগ্নে দাঁড়িয়ে তা তথ্যসহ ফাঁস করে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত বিশাল মেগা প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে রাজ্যজুড়ে জাতীয় স্তরের আপৎকালীন হেল্পলাইন ‘ডায়াল ১১২’ (Dial 112) পরিষেবার আনুষ্ঠানিক রূপায়ণ করলেন তিনি। এই মেগা প্রজেক্টের সূচনা করেই বিগত সরকারের আমলের চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও উদাসীনতা নিয়ে কড়া ভাষায় তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সামনে পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আগেকার জমানায় ১০০ নম্বরে ফোন করলে কেউ পরিষেবা পেত না, কেউ ফোন ধরত না। মানুষ জানত ফোন ধরাই হবে না, তাই মানুষ ফোন করাই বন্ধ করে দিয়েছিল। স্রেফ সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে বিগত তৃণমূল সরকার এই রাজ্যে জাতীয় স্তরের কেন্দ্রীয় ১১২ নম্বর পরিষেবা চালু করতে দেয়নি।” পূর্বতন সরকারের অকর্মণ্যতার দিকে সরাসরি তোপ দেগে তিনি যোগ করেন, “আমি পুলিশমন্ত্রী হওয়ার পর ৫ মাস ধরে নিজে গ্রাউন্ডে বেশি কাজ করেছি, মাটিতে পা রেখে কাজ করতে আমি বেশি ভালবাসি। জেলায় জেলায় গিয়ে কন্ট্রোল রুম নিজে খতিয়ে দেখেছি। আজ থেকে ১১২ নম্বরে ফোন করলেই জরুরি পরিষেবা ও লাইভ পুলিশি সহায়তা মিলবে।”
নতুন এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দ্রুত উন্নতির জন্য প্রথম দফায় ৪৫০টি নতুন কুইক রেসপন্স গাড়ি ও মোটরবাইকের ফ্ল্যাগ-অফ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে যানজটের চেনা জটলা রুখতে এবং আধুনিক নজরদারির জন্য একটি অত্যাধুনিক ‘রাজ্যের লাইভ ট্রাফিক সিস্টেম’ ও টোল-ফ্রি হেল্পলাইন (1800 345 8922) আজ থেকেই সম্পূর্ণ লাইভ চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। জনতার সুরক্ষায় কোনো খামতি রাখা হবে না বলেও কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারী।
