প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় শিল্পায়ন ও নতুন লগ্নি টেনে আনার ক্ষেত্রে এক বড়সড় ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় রাজ্যের শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের বড় আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব ভাবাবেগ ও রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করে দেন তিনি।বিনিয়োগকারীদের মঞ্চ থেকে অভয় দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ভারতের অন্য উন্নত রাজ্যগুলোর মতোই বাংলাতেও লগ্নির সেরা পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তবে অন্য রাজ্যের মডেল হুবহু এখানে চাপানো হবে না।
শিল্পপতিদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভারতের ২১টি রাজ্যে আজ যে ধরনের লগ্নি এবং সামগ্রিক উন্নয়ন হচ্ছে, তার বাইরে কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ নয়। এখানে ব্যবসা ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে আমরা আপনাদের পূর্ণ সহযোগিতা চাই। আমাদের সরকারের সাথে শিল্পপতিদের এই নিখাদ বন্ডিংটাই এখন সবচেয়ে বেশি দরকার।”
ভাষার রাজনীতি ও অন্য রাজ্যের মডেলের তুলনা টেনে মুখ্যমন্ত্রী এক নজিরবিহীন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “কেউ বা কারা বলতেন, ভাষার নামে ভাগ করে দিতেন। তবে আমি স্পষ্ট বলছি, আমি এই পশ্চিমবঙ্গকে গুজরাট হতে দেব না। আমি পশ্চিমবঙ্গকে উত্তরপ্রদেশ হতে দেব না। আমরা সকলে গর্বিত ভারতবাসী।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারী বোঝাতে চেয়েছেন যে বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্য যেমন গুজরাট বা উত্তরপ্রদেশের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট রয়েছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক গুরুত্ব সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলা নিজের ঐতিহ্য ও ভাষাগত ভাবাবেগ বজায় রেখেই ভারতের অন্যতম সেরা শিল্পোন্নত রাজ্য হয়ে উঠবে।
শিল্পের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য এই অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই একটি বিরাট ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী রবিবার (১৬ আগস্ট ২০২৬) থেকেই সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat) স্বাস্থ্য বিমা যোজনা পুরোদমে চালু হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো নাগরিকের কাছে যদি এই কার্ডের ফর্ম বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমার কার্ড নাও থাকে, তবে চিন্তার কিছু নেই। হাসপাতালে গেলেই সরাসরি ফর্ম পাওয়া যাবে এবং সেখানে থাকা আধার নম্বর যাচাই করেই সরকারি স্বাস্থ্য বিমার আবেদন করা যাবে। সব মিলিয়ে, লাউডন স্ট্রিটের এই মেগা অনুষ্ঠান থেকে একদিকে যেমন বাংলায় তোলাবাজিমুক্ত ও স্বচ্ছ শিল্পায়নের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, তেমনই সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার জন্য বড় উপহার ঘোষণা করলেন তিনি।
