Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘মুখ ঘুরিয়ে থাকলে লাভ হবে?’— নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক আগে কার সঙ্গে বন্ধুত্বের ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক চারদিন আগে, আজ মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তীতে নিজের পুরোনো নির্বাচনী ক্ষেত্র নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে এক নজিরবিহীন মাস্টারস্ট্রোক দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।সাতেঙ্গাবাড়ি, কমলপুর, ভেটুরিয়া ও বিরুলিয়া বাজারের মতো সংখ্যালঘু প্রধান বুথ ও এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে সরাসরি হাত বাড়িয়ে বন্ধুত্বের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সংখ্যালঘু ভাইবোনদের উদ্দেশে মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “সংখ্যালঘু ভাইরা মুখ ঘুরিয়ে থাকবে, লাভ হবে? আর অস্তিত্ব আছে? এই তো সুযোগ বন্ধুত্ব করার, এর থেকে আর ভাল সুযোগ পাবে না সাতেঙ্গাবাড়ি, কমলপুর, ভেটুরিয়া।”

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। সেই তারিখটিকে উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, এটাই বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সবচেয়ে উপযুক্ত ও শুভ সময়। তিনি সাফ জানান, তৃণমূলের ফায়দা তোলার দিন শেষ, তাই এখন রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির হাত ধরাই সাধারণ মানুষের সার্বিক উন্নয়নের একমাত্র পথ। সংখ্যালঘুদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ‘জয় শ্রীরাম’ বলি, কিন্তু আপনাদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দিতে চাই না। আপনারা চাইলে ‘জয় শ্রীরাম’ না বলে শুধু ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলতে পারেন। ৬ অক্টোবর বন্ধুত্ব করার শুভ দিন, হাত মেলান, বন্ধুত্ব করুন। সকলের কল্যাণের জন্য আমরা কাজ করব।”

চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় আসন থেকেই জয়লাভ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীতে তিনি ভবানীপুর আসনটি নিজের কাছে রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপনির্বাচন হচ্ছে। এই উপনির্বাচনে বিজেপির তরফ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে হাসিরানি রথ-কে।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নন্দীগ্রামের প্রায় ২৬ শতাংশ ভোটার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। অতীতে এই ভোটব্যাংক মূলত তৃণমূলের দিকে থাকলেও, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন হওয়ার পর এই প্রথম খোদ মুখ্যমন্ত্রী নিজে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতিতে সংখ্যালঘুদের পাশে টানার মরিয়া চেষ্টা করলেন।

Exit mobile version