Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘সুমিত রায় জেলে, বড় চোরও যাবে!’— নন্দীগ্রামের মেগা মঞ্চ থেকে কার দিকে ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর? তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের মেগা উপনির্বাচনের ঠিক চারদিন আগে, আজ মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তীতে নিজের ছেড়ে আসা খাসতালুক নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে এক চরম রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বীরুলিয়ার হাইপ্রোফাইল নির্বাচনী জনসভা থেকে দুর্নীতি ইস্যুতে সরব হয়ে নাম না করে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরাসরি জেলের হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে আয়োজিত এই জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, “আপনারা সবাই অপেক্ষা করে আছেন, শাহজাহান থেকে সুমিত রায়, সব চোরেরা তো জেলে। বড় চোর কবে যাবে? বড় চোরও জেলে যাবে। এতটুকু বিচলিত হবেন না।” তৃণমূলের শাসনকালকে নিশানা করে তিনি আরও যোগ করেন, “এত পাপ ও এত অত্যাচার করেছে, তার সীমা-পরিসীমা নেই।”

শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে সরাসরি কারও নাম মুখে না আনলেও, রাজনৈতিক মহলের মতে তাঁর ইঙ্গিত অত্যন্ত পরিষ্কার। গত ১০ সেপ্টেম্বর সরকারি জমি জালিয়াতি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সবুজ সংকেত মেলার পর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়কে কালীঘাট থেকে গ্রেফতার করে সিআইডি। ‘কান টানলে মাথা আসে’—এই চিরন্তন রাজনৈতিক প্রবাদকে হাতিয়ার করেই মুখ্যমন্ত্রী আজ বীরুলিয়ার মঞ্চ থেকে স্পষ্ট করে দিলেন যে, সুমিত রায়ের পর এবার সরাসরি তাঁর চালকদের অর্থাৎ তৃণমূলের শীর্ষস্তরের ‘বড় চোরদের’ ঘাড়েই আইনি খাঁড়া নামতে চলেছে।

নির্বাচনী জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ২০২৬ সালে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পর মাত্র ৫ মাসেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। তৃণমূলকে ‘ছিন্নমূল’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আজ ইভিএম-এ আর শুকনো ঘাস বা জোড়াফুলের প্রতীক দেখতে পাওয়া যাবে না। এই পার্টির নাম ও নিশান আর থাকবে না।” এমনকি নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান ভোটের আগেই ময়দান ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পরই কড়া প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে অন্য দলগুলি থেকেও। সব মিলিয়ে, ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের ঠিক আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখ থেকে সুমিত রায়ের পর ‘বড় চোর’-এর জেলের যাওয়ার এই হুঙ্কার পূর্ব মেদিনীপুর তো বটেই, গোটা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অলিন্দে এক বিশাল তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

Exit mobile version