Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“সরকার পরিবর্তন না হলে এই নিয়োগ হত না, হাইকোর্ট বলেছিল ওবিসি তালিকা বৈধ নয়!” নেতাজি ইনডোরে মমতাকে নজিরবিহীন আক্রমণ শুভেন্দুর!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের উদ্যোগে পুলিশ প্রশাসনে এক ঐতিহাসিক ও মেগা নিয়োগের সূচনা হলো। গতকাল, ১২ অক্টোবর ২০২৬ (সোমবার) কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সরকারি অনুষ্ঠানে প্রায় ১১,০০০ নবনিযুক্ত রাজ্য পুলিশ কনস্টেবলের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র ও উর্দি তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই মঞ্চ থেকেই পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ নীতিকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি। নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি কোনো হাততালি চাই না, কোনো ক্রেডিটও নিতে চাই না। আমি শুধু এটুকু বলতে চাই, রাজ্যে যদি সরকার পরিবর্তন না হত, তবে এই নিয়োগ কোনোদিনই হত না।”

বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের ত্রুটিপূর্ণ সংরক্ষণ নীতির কারণে কীভাবে যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি বছরের পর বছর আদালতের চক্করে আটকে ছিল, তা তথ্যসহ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নিয়োগের এই প্রক্রিয়া বিগত সরকারের আমলেই শুরু হয়েছিল, কিন্তু তা আইনি জটে আটকে ছিল। আগের সরকারের সময়ে হাইকোর্ট স্পষ্ট বলছিল যে, এই ওবিসি তালিকা বৈধ নয়। আর অন্য দিকে সরকার জেদ ধরে বলেছিল, তারা যা করেছে সেটাই ঠিক।” তৃণমূল জমানার কড়া সমালোচনা করে তিনি আরও যোগ করেন, “কোর্ট আর সরকারের এই দড়ি টানাটানির মাঝে আপনারা (চাকরিপ্রার্থীরা) মাঝখান থেকে আটকে ছিলেন। আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন বসিয়ে সেই ওবিসি জট মুক্ত করেছে এবং হাইকোর্টের অর্ডার যা ছিল, তাকেই সম্পূর্ণ আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলের পুলিশি পরিকাঠামো পরিচালনা পদ্ধতি নিয়েও সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ রাজ্যে পুলিশের বেহাল দশার খতিয়ান দিয়ে তিনি জানান, প্রতি ১ লক্ষ জনসংখ্যায় যেখানে জাতীয় স্তরে পুলিশ কর্মীর গড় ১৫৫ জন এবং উত্তরপ্রদেশে ২০০ জন, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে এই সংখ্যা মাত্র ১০৫। বিগত জমানার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আগের সরকার সিভিক ভলান্টিয়ারদের দিয়ে থানা চালাত। তবে সিভিকদের প্রতি আমাদের কোনো বিদ্বেষ নেই, উৎসবের মরশুমে আমরা ইতিমধ্যেই তাঁদের বেতন ২,০০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু আগামী দিনে প্রতিটি স্থায়ী নিয়োগ হবে শতভাগ স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত।”

নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের মঞ্চ থেকে বেকার যুবকদের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে আরও ৯,০০০ নতুন পুলিশ নিয়োগের নোটিফিকেশন জারি করা হবে। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কলকাতা পুলিশে ৪,০০০ কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (PSC) মাধ্যমে রাজ্য পুলিশে ৬৫০ জন গ্রুপ-সি ক্লার্ক ও ১,১৩১ জন সাব-ইন্সপেক্টর (SI) নিয়োগ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ঘোষণা করেন, “২০২৭ সালের ৮ মে-র মধ্যে রাজ্যে মোট ১ লক্ষ সরকারি নিয়োগ সম্পন্ন করবে আমাদের সরকার।” মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পাল্টা দাবি করে বলেছেন, এই কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়াটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সম্পূর্ণ করে গিয়েছিলেন, এখন শুধু নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, পুজোর মুখে ১১ হাজার চাকরিপ্রার্থীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী যেমন একদিকে সাধারণ মানুষের মন জয় করলেন, ঠিক তেমনি ওবিসি মামলার আইনি জটের সম্পূর্ণ দায় মমতার কাঁধে ঠেলে দিয়ে রাজনৈতিক ময়দানে তৃণমূলকে এক্কেবারে কোণঠাসা করে দিলেন।

Exit mobile version