প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আরও একধাপ কড়া ও আগ্রাসী ভূমিকা নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল, ২৪ আগস্ট ২০২৬ (সোমবার) রাতে নিজের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও পোস্ট করে যাদবপুর নিয়ে সরাসরি বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ক্যাম্পাসের ভেতরে বসে কোনো ধরনের দেশবিরোধী বা সমাজবিরোধী প্রচার কোনো পরিস্থিতিতেই বরদাস্ত করবে না নতুন রাজ্য সরকার।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়েরই কিছু সাধারণ ও সচেতন পড়ুয়াদের পক্ষ থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর গ্রিভেন্স সেলে (CM’s Grievance Cell) এই মারাত্মক তথ্য ও প্রমাণ পাঠানো হয়েছে।
ভিডিওটি শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর অফিশিয়াল বিবৃতিতে অত্যন্ত কড়া ভাষায় লিখেছেন:”মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় (CMO) এবং গ্রিভেন্স সেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সচেতন ছাত্রের কাছ থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ভিডিও এবং ছবি পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আর্টস ডিভিশন বয়েজ হস্টেল’ (Arts Division Boys Hostel) চত্বরের ভেতরে অত্যন্ত আপত্তিকর, সমাজবিরোধী, হিংসাত্মক এবং দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন (Graffiti) ও ছবি আঁকার প্রমাণ মিলেছে।” ভিডিওতে হস্টেলের দেওয়ালের কিছু নির্দিষ্ট চরমপন্থী স্লোগান এবং নিষিদ্ধ উগ্রপন্থী নেতাদের গুণগান গাওয়ার ছবি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে নবান্ন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মাওবাদী ও নিষিদ্ধ উগ্রপন্থী মতাদর্শের প্রচার রুখতে উপাচার্য এবং উচ্চশিক্ষা দফতরকে অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “কোনও অবস্থাতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস চত্বরকে বিকৃত প্রচার এবং ভারত-বিরোধী মনোভাব ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।” মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেশবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি অনুসরণ করে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আইনশৃঙ্খলার কঠোর নিয়ম মেনে এই বিশৃঙ্খলা উপড়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য এবং উচ্চশিক্ষা দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি অন-গ্রাউন্ড ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনে এই আপত্তিকর ছবি ও গ্রাফিতির উপস্থিতি প্রমাণিত হয়, তবে অবিলম্বে তা মুছে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে এর পেছনে কারা জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অবশ্যই মেধা এবং শৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বজায় রাখতে হবে। নজর রাখতে হবে যাতে কখনওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি অসামাজিক কার্যকলাপের ক্ষেত্র হয়ে না-ওঠে।”
