প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বীরভূমের বেআইনি পাথর ব্যবসার বেতাজ বাদশা এবং বর্তমানে পলাতক ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের সাম্রাজ্য নিয়ে এবার সরাসরি নবান্ন থেকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল, শুক্রবার নবান্নে এক হাইপ্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী টুলু মণ্ডলের নামে থাকা একের পর এক বেনামি সম্পত্তি, কোটি কোটি টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং বিলাসবহুল গাড়ির বিস্ফোরক তালিকা জনসমক্ষে নিয়ে আসেন।মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ তোলেন, “বিগত তৃণমূল সরকারের পূর্ণ সমর্থন এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি ব্যাকআপ ছাড়া এই বিপুল দুর্নীতি করা কোনোমতেই সম্ভব ছিল না। গত ১৫ বছর ধরে সরকারি বিভাগগুলিকে নীরব রেখে এই চক্র চালানো হয়েছে।” একই সুরে সরব হয়েছে সিপিএম-ও, তাদের দাবি, তৃণমূল আমলেই ক্ষমতার অলিন্দে থাকা নেতাদের ছত্রছায়ায় এই টুলু মণ্ডলের উল্কাবেগে উত্থান ঘটেছিল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে পলাতক এই পাথর মাফিয়ার যে সমস্ত সম্পত্তির হদিশ দিয়েছেন, তা দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় ওয়াকিবহাল মহলের। টুলু মণ্ডলের নামে-বেনামে মোট ২১টি মেগা প্রপার্টির খোঁজ মিলেছে, যার মধ্যে ৩২০ বিঘারও বেশি জমি রয়েছে। বীরভূম এবং কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৭টি আলিশান বাড়ি ও একটি বিশাল হাই-এন্ড ফার্ম হাউসের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। পাথর পাচারের কাজে ব্যবহারের জন্য টুলু মণ্ডলের মালিকানাধীন ২৪২টি ডাম্পার, ট্রাক ও বিলাসবহুল গাড়ি পুলিশ ও রাজ্য রাজস্ব দপ্তর ইতিমধ্যেই চিহ্নিত বা বাজেয়াপ্ত করেছে।বিভিন্ন ব্যাংকে টুলু মণ্ডল ও তার সহযোগীদের নামে থাকা একাধিক অ্যাকাউন্টে থাকা ৯৩ কোটি টাকা রাজ্য সরকারের নির্দেশে ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। কালো টাকা সাদা করার উদ্দেশ্যে বীরভূমে খোলা ২টি বড় পেট্রোল পাম্পেরও হদিশ মিলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, টুলু মণ্ডলের ভগ্নিপতি মিনার মণ্ডলের বাড়িতে সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকার নগদ টাকা ও প্রচুর সোনা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। অবস্থা এমন ছিল যে টাকা গুনতে ব্যাংক থেকে মেশিন নিয়ে আসতে হয়েছিল! সিউড়ি আদালতের নির্দেশে মিনার মণ্ডলকে বর্তমানে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে আদালতের কাছে পুলিশের দাবি, বাজেয়াপ্ত হওয়া ওই বিপুল পরিমাণ সোনা সরাসরি দুবাই থেকে চোরাচালান হয়ে বীরভূমে এসেছিল, যা এই দুর্নীতির আন্তর্জাতিক যোগসূত্রকে স্পষ্ট করে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে যারা এই রাজস্ব লুটের ভাগীদার ছিল, সেই আমলা বা নেতাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং টুলুর সমস্ত বেআইনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা সরকারি তহবিলে আনা হবে।
