Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

সনাতন অবমাননার অভিযোগ! ‘আমি ছাড়ার পাত্র নই’, নজিরবিহীন কড়া ভাষায় বিকাশকে ধুয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা সিপিআই(এম) নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের একটি বিতর্কিত সামাজিক মাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে এবার চরম রাজনৈতিক ও আইনি চাপ তৈরি হলো রাজ্য রাজনীতিতে। গতকাল তাঁর বাসভবনে ঘটে যাওয়া একটি অনভিপ্রেত ঘটনার পর, বিকাশবাবুর করা একটি নির্দিষ্ট মন্তব্য সমগ্র সনাতন হিন্দু সমাজ ও রাষ্ট্রবাদীদের চরম অপমান করেছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) আরজি কর হাসপাতালে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP) একটি গুরুত্বপূর্ণ মেগা কনভেনশনে যোগ দিয়ে প্রবীণ এই বাম নেতাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সাথে তাঁর এই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের স্পষ্ট হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

আজ আরজি কর হাসপাতালের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান যে, রাজ্য সরকারের ও পুলিশের তৎপরতায় হামলার ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই কীভাবে একজন প্রবীণ আইনজীবী সামাজিক মাধ্যমে এর দায় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দিলেন, তা নিয়ে তীব্র বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী আজ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন: “গতকাল একজন সিপিএম নেতা, তিনি আইনজীবীও, তাঁর বাড়িতে একটা ঘটনা ঘটে। আমার পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে দিলাম, পুলিশ অভিযুক্তকে ধরেও নিয়েছে। কিন্তু তিনি নিজের ভেরিফায়েড সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লিখে দিলেন, হিন্দুত্ববাদীরা আক্রমণ করেছে! এটা কী? আপনি পুরো হিন্দু সমাজের অপমান করছেন। এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উনি বলেছেন, হিন্দুত্ববাদীরা হামলা করেছে—এই মন্তব্যের ওপরেও তদন্ত হবে। আমি ছাড়ার পাত্র নই। গেরুয়া, সনাতন, হিন্দুত্ব ও রাষ্ট্রবাদীর বিরুদ্ধে আঙুল তুললে এদের সবক শেখাতেই হবে।”

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোর ৫টা নাগাদ পূর্ব যাদবপুরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়ি লক্ষ্য করে এক মদ্যপ যুবক মদের বোতল ছুড়ে জানলার কাচ ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে দেয়। ঘটনার পরেই রাজ্য প্রশাসন দ্রুত অ্যাকশন নেয় এবং মূল অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে শ্রীঘরে পাঠায়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও গতকাল এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বিকাশবাবুর সাথে ফোনে কথা বলেছিলেন। তবে বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্তরে কোনও গুন্ডামি বা হামলা প্রশাসন বরদাস্ত করবে না এবং অপরাধীকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। কিন্তু সেই বিষয়ের আড়ালে দাঁড়িয়ে যদি কেউ সনাতন ধর্ম বা হিন্দুত্ববাদকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করেন, তবে আইন তাঁর বিরুদ্ধেও সমভাবে কাজ করবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারির জবাবে অবশ্য বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানিয়েছেন, “উনি তদন্ত করুন, তদন্ত করলে প্রমাণিত হবে উনি আসলে হিন্দু সমাজের প্রতিনিধি নাকি সাংবিধানিক প্রতিনিধি, আমি খুশিই হব।” সব মিলিয়ে, হামলাকাণ্ডের মূল অপরাধী ধরা পড়লেও, ‘হিন্দুত্ব’ ও ‘সনাতন অবমাননা’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী বনাম বিকাশরঞ্জনের এই সংঘাত রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল আইনি মোড় নিতে চলেছে।

Exit mobile version