প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের ধর্মীয় ও পারিবারিক পরম্পরায় আঘাত করার ঘটনা নিয়ে এবার সরাসরি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ কলকাতায় আরএসএস-এর শিক্ষা শাখা ‘বিদ্যা ভারতী’র একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, স্কুলের শৃঙ্খলার অজুহাতে কারও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা বরদাস্ত করা হবে না। সম্প্রতি রাজ্যের কিছু স্কুলে ছাত্রীদের কপালে চন্দনের টিকা বা গলায় তুলসীমালা পরে আসায় বাধা দেওয়া এবং হেনস্থা করার অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে আজ মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে কড়া বার্তা দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী একটি ভাইরাল ভিডিও এবং সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “এক বাচ্চার মাথায় চন্দনের টিকা মুছিয়ে দিয়েছেন এক শিক্ষক। শিক্ষক বলছেন, মুখ ধুয়ে এস, টিকা নিয়ে ক্লাসে আসা যাবে না।”এই মানসিকতার কড়া সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানান, “কে চন্দনের টিকা রাখবে, কে টিকি রাখবে কিংবা কে গলায় তুলসির মালা পরবে, এটা তো তার নিজের পারিবারিক ঐতিহ্য এবং নিজস্ব পরম্পরা। এতে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, স্কুলের নিয়মশৃঙ্খলার নামে ছাত্রছাত্রীদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কঠোর অবস্থান নেবে।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনে তোষণের রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থা ও স্কুলের সিলেবাস সম্পূর্ণ ধ্বংসের কিনারায় চলে গিয়েছিল। তিনি বলেন, “সেই চক্রান্ত যদি সফল হতো, তবে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থা আর বাংলাদেশের ইসলামিক শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে কোনো তফাৎ থাকত না।”এই শিক্ষাব্যবস্থাকে ফের সঠিক ট্র্যাকে ফেরাতে বর্তমান বিজেপি সরকার একের পর এক বড় সংস্কার করছে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত সরকারি, সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল এবং মাদ্রাসার প্রার্থনা সভায় পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা ছাত্রছাত্রীদের মনে রাষ্ট্রবাদ ও দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করছে।
সনাতনী সংস্কৃতি এবং প্রকৃত মানুষ গড়ার শিক্ষার প্রসার ঘটাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরএসএস এবং বিদ্যা ভারতীর নেতৃত্বের কাছে একটি বড় আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্য জুড়ে আরও ১,০০০টি নতুন ‘বিদ্যা ভারতী বিদ্যালয়’ (সরস্বতী শিশু বা বিদ্যা মন্দির) এবং গোশালা তৈরি করার লক্ষ্যমাত্রা নিতে হবে। এই বিকল্প ও সংস্কারমুখী শিক্ষাব্যবস্থাই আগামী দিনে বাংলার যুবসমাজকে সঠিক দিশা দেখাবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর আজকের এই কড়া বিবৃতির পর ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, স্কুলস্তরে ছাত্রছাত্রীদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার মতো কোনও ঘটনা ঘটলে এবার শিক্ষা দফতর সরাসরি সংশ্লিষ্ট স্কুল বা শিক্ষকের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে।
