প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করলেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক প্রশাসনিক সংস্কারে জোর দিচ্ছেন তিনি। শুক্রবার ১৫ ই মে ২০২৬, এসএসকেএম হাসপাতালে স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিক, কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলার ১২টি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ এবং মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্টদের (MSVP) নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে এবং হাসপাতালের অন্দরে চলা বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা অচলাবস্থা কাটাতে এই বৈঠক থেকে একগুচ্ছ কড়া ও গঠনমূলক পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যের কোনও সরকারি হাসপাতাল থেকে কোনও রোগীকে বিনা চিকিৎসায় ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। ‘রেফার’ বা রিফিউজালের কারণে সাধারণ মানুষকে যে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো, তা বন্ধ করতে কড়া প্রশাসনিক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল গুলিতে পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে অবিলম্বে শয্যা বা বেডের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্য দফতরকে নির্দেশ দেন তিনি। চিকিৎসায় স্বচ্ছতা এবং গতি আনাই যে নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য, তা এই নির্দেশেই স্পষ্ট।
সরকারি হাসপাতাল চত্বরে অসহায় রোগীদের প্রতারিত করে টাকা হাতানোর যে ‘দালাল চক্র’ দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল, তা উপড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর মুখ্যমন্ত্রী। এই চক্র সম্পূর্ণ বন্ধ করতে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে (CP) সরাসরি কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুবাবুর এই কড়া অবস্থানের ফলে হাসপাতালগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
জরুরি কালীন পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুল্যান্সের কালোবাজারি রুখতে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে একটি অত্যন্ত আধুনিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার থেকে রাজ্যে চালু হতে চলেছে অ্যাপ-নির্ভর সরকারি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা। এর ফলে বুকিং ক্যাবের মতোই স্বচ্ছ ভাড়ায় এবং দ্রুততম সময়ে রোগীরা অ্যাম্বুল্যান্সের সুবিধা পাবেন। হয়রানি বন্ধে এই ডিজিটাল পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সকলেই।
পূর্বতন সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলির সঙ্গে রাজ্যের যে সমন্বয়ের অভাব ছিল, তা দূর করতে বড় উদ্যোগ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্র ও রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলির মধ্যে পারস্পরিক মেলবন্ধন ও সমন্বয় বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হচ্ছে এই বৈঠকে। প্রশাসনিক স্তরে শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাজ্যের স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এক নতুন ও ইতিবাচক যুগের সূচনা করতে চলেছে। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সুরক্ষিত করতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং গঠনমূলক।
