প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শিক্ষক দিবসের পুণ্যলগ্নে দাঁড়িয়ে বর্তমান শিক্ষক সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক ও তাত্ত্বিক বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কলকাতার নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে বিদ্যালয় শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ শিক্ষক দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকেই ভারতের দুই মহান শিক্ষাগুরু—ডক্টর সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণন এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আদর্শ ও আধুনিক সমাজে তাঁদের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত বছরগুলোর নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা এবং শিক্ষা খাতের নানা চড়াই-উতরাইয়ের কথা স্মরণ করে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বহু জটিলতা, বহু বন্ধুর পথ পেরিয়ে চলতে হচ্ছে আমাদের”। তবে এই সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রকৃত মানুষ গড়ার কারিগর তৈরি করতে বিদ্যাসাগর ও রাধাকৃষ্ণনের আদর্শকেই মূল হাতিয়ার করার ডাক দিয়েছেন তিনি।
এদিনের মঞ্চ থেকে প্রকৃত শিক্ষকের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডক্টর সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণনের জীবনের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “প্রকৃত শিক্ষক কেমন হওয়া উচিত, উদাহরণ ডক্টর সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণন”।রাধাকৃষ্ণনের পাণ্ডিত্যের প্রশংসা করে তিনি আরও এক ঐতিহাসিক তথ্য মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “ব্রিটিশ শাসনকালে ডক্টর সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণনের লেখা লন্ডন গিয়েছিল। ইংরেজরা পর্যন্ত তাঁর লেখা পড়ে অভিভূত হয়ে গিয়েছিলেন”। উচ্চশিক্ষায় তাঁর অবদানকে সম্মান জানাতেই যে আজও “কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টর সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণনের নামে চেয়ার রয়েছে”—সে কথাও তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
ডক্টর রাধাকৃষ্ণনের পাশাপাশি বাংলার শ্রেষ্ঠ সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদানের কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিদ্যাসাগরের আধুনিক সমাজভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দিয়ে গিয়েছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর”। বিশেষ করে নারী সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার পেছনে বিদ্যাসাগরের আপসহীন লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন নারীশিক্ষার প্রসারে”। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, শতবর্ষ পেরিয়ে এসেও “ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর যে সব সংস্কার করে গিয়েছেন, আজও তা প্রাসঙ্গিক”।
মণীষীদের এই পবিত্র আদর্শকে বাংলার শিক্ষাঙ্গনে ফিরিয়ে আনতেই স্কুল সার্ভিস কমিশনে (SSC) আমূল ও ঐতিহাসিক সংস্কারের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভুল থেকেই মানুষ শিক্ষা নেয়, SSC-তে ৩ জন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের শিক্ষক রয়েছেন”। এর পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রের আধুনিক মূল্যায়ন এবং চূড়ান্ত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে “IIM থেকেও এক জনকে নেওয়া হয়েছে, আমরা শিক্ষক নিয়োগ করে দেব” বলে চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি।
