Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘আপনারাও যেন জাহাজবাড়ি না বানান….’! নন্দীগ্রাম জয়ের পর বিজেপি নেতাদের চরম হুঁশিয়ারি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নন্দীগ্রামের মাটি থেকে দলের নেতাকর্মী ও পঞ্চায়েত প্রধানদের উদ্দেশ্যে এক নজিরবিহীন কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর, রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় রেয়াপাড়ার একটি বিশেষ কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেছিলেন তিনি। সেখানেই দুর্নীতি, চালচলন এবং ক্ষমতার ঔদ্ধত্য নিয়ে দলের কর্মীদের কড়া ভাষায় সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এই সতর্কবার্তা দিতে গিয়েই তিনি টেনে আনেন একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ এবং নন্দীগ্রামের প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ানের বহুচর্চিত বিতর্কিত ‘জাহাজ বাড়ি’র প্রসঙ্গ। রবিবার সন্ধ্যায় নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় আয়োজিত ‘সম্মাননা জ্ঞাপন ও অর্ঘ্য প্রদান’ অনুষ্ঠানে নন্দীগ্রামের শহিদ ও আহত পরিবারের হাতে পুজোর উপহার তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই মঞ্চে নবনির্বাচিত বিধায়ক হাসিরানি রথকে পাশে বসিয়ে দলের নেতাদের মানসিকতা ও ব্যবহার সংযত রাখার কড়া দাওয়াই দেন তিনি।

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দলের কিছু নেতা-কর্মীর মধ্যে যাতে কোনোভাবেই ঔদ্ধত্য বা বেহিসাবি অর্থ উপার্জনের লোভ গ্রাস না করে, তা নিশ্চিত করতেই এই বার্তা। মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কেউ এমন কোনও কাজ করবেন না যাতে সাধারণ মানুষ আঙুল তুলে বলতে পারে— এলাকায় আরও একটা জাহাজ বাড়ি তৈরি হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে চলতে হবে। দলের বাইরে কেউ নয়।” উল্লেখ্য, তৃণমূল জমানায় মহম্মদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তারাচাঁদবাড়ি গ্রামে রাস্তার পাশে তৈরি শেখ সুফিয়ানের বিশালাকার বিলাসবহুল প্রাসাদোপম বাড়িটি জাহাজের আদলে হওয়ায় ‘জাহাজ বাড়ি’ নামে পরিচিতি পায়। শুভেন্দু অধিকারী অতীতেও বহুবার এটি নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বেহিসাবি অর্থ উপার্জনের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের পুরনো ‘রোগ’ যাতে কোনোভাবেই বিজেপি নেতাদের মধ্যে সংক্রামিত না হয়, সে ব্যাপারে প্রথম থেকেই রাশ টানতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পরামর্শ দেওয়ার সুরে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “একটা কথা মাথায় রেখে সকলে চলবেন— প্রথমে জনগণকে দেখতে হবে, এবং তার পর কর্মীদের স্বার্থ দেখবেন।” এই অনুষ্ঠানে কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন। তিনি শুভেন্দুর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, অতীতে তিনি বিভিন্ন পদে থাকলেও সর্বদা নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে ছিলেন এবং আজ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও তিনি সাধারণ মানুষের সেবক হিসেবেই থাকবেন।

Exit mobile version