Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“চোরদের ঠাঁই নেই বাংলায়, দরকার হলে ব্রিগেডকে জেল বানাব!” বিধানসভায় দাঁড়িয়ে সাবেক তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়ার কাজ যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে—তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের জবাবে নিজের প্রথম বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের পাহাড়-প্রমাণ দুর্নীতির কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।তিনি সাফ জানান, গত ১৫ বছরে ক্ষমতায় থেকে যারা বাংলার গরিব মানুষের টাকা লুঠ করেছে, তাদের কাউকেই আইনের ফাঁক গলে বেরোতে দেওয়া হবেনা। দুর্নীতির ব্যাপকতা বোঝাতে গিয়ে তিনি রসিকতার সুরে যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যে পরিমাণ চুরি হয়েছে, তাতে চোরদের জায়গা দিতে শেষ পর্যন্ত হয়তো কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড ময়দানকেই জেলখানা বানাতে হবে!”

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দাবি করেন, সাবেক তৃণমূল সরকারের পতন ছিল অবধারিত। অহংকার, সীমাহীন দুর্নীতি এবং পরিবারতন্ত্রের জেরেই আজ পিসি-ভাইপোর দল ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং দলটি ভেঙে টুকরো হয়ে গেছে। শুভেন্দু বাবুর কথায়, “জনগণের দরবারে তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছিল। আর সেই কারণেই বাংলার মানুষ এই পরিবারতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতা থেকে উপড়ে ফেলে বিজেপি-কে রাজ্যের সেবার দায়িত্ব দিয়েছে।” তিনি স্পষ্ট জানান, সাবেক জমানার কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা বা মন্ত্রীকে রেহাই দেওয়া হবে না।

এদিন বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে একের পর এক সরকারি নথি ও তথ্য তুলে ধরে সাবেক সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। অতীতে সরকারি প্রকল্পের নামে কীভাবে সাধারণ মানুষের করের টাকা অপব্যবহার হয়েছে, তার নজির হিসেবে তিনি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘বিধবা ভাতা’র মতো সামাজিক প্রকল্পে নজিরবিহীন জালিয়াতির অভিযোগ আনেন। মুখ্যমন্ত্রী সরকারি তথ্য দিয়ে দাবি করেন, প্রায় ২৭ লক্ষ উপভোক্তার নাম ভোটার লিস্টেই নেই! শুধু তাই নয়, জঙ্গিপুর ও কৃষ্ণনগর সহ বিভিন্ন ব্লকে হাজার হাজার পুরুষদের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং ‘বিধবা ভাতা’ পাইয়ে দিয়ে সরকারি কোষাগার ফাঁকা করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি, বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনের (BGBS) নামে ফিকি (FICCI)-কে প্রায় ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি। যার সরাসরি দায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর চাপিয়েছেন তিনি।

একদিকে যখন অতীত জমানার দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, অন্যদিকে তেমনই রাজ্যে আইনের শাসন কায়েম করতে তৎপর বর্তমান সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দলের কর্মী ও সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। সাবেক তৃণমূলের বিধায়ক বা কাউন্সিলরদের অফিস থেকে বেআইনি সরকারি সামগ্রী উদ্ধারের কাজ যাতে সাধারণ মানুষ না করে, বরং পুলিশ ও প্রশাসন সম্পূর্ণ ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে আইন মেনে করে, সেই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ঝাঁঝালো বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সাবেক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তৃণমূলের বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলেই তা এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।

Exit mobile version