Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

কমিশন দপ্তরে ধুন্ধুমার! আক্রান্ত বিজেপি? মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই কলকাতার অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের (EC) দপ্তরের সামনে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংঘর্ষের সাক্ষী থাকল রাজ্য। ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার ‘ফর্ম-৬’ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেলে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস— দু-পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনায় এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।

ফর্ম-৬ জমা দেওয়া ঘিরে বিতর্ক। ঘটনার মূলে রয়েছে নতুন ভোটার হওয়ার আবেদনপত্র বা ‘ফর্ম-৬’। বিজেপির অভিযোগ, তাদের কর্মীরা যখন নিয়মতান্ত্রিকভাবে পূর্ব মেদিনীপুর সহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কয়েকশো আবেদনপত্র নিয়ে কমিশনের দপ্তরে যাচ্ছিলেন, তখন তৃণমূল সমর্থকরা তাঁদের পথ আটকান। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি, জনৈক ব্যক্তি অবৈধভাবে প্রায় ৪০০টি ফর্ম নিয়ে দপ্তরের ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন। তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি ‘বহিরাগত’ এবং বেআইনিভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা করছিলেন। এই পাল্টাপাল্টি দাবিকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের দাবি, তাঁরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করতে এসেছিলেন, কিন্তু পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, পুলিশের ব্যারিকেডের সামনেই তাদের কর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। এক বিজেপি কর্মীর কথায়, “আমরা শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিনিধিদের হয়ে এখানে এসেছিলাম। কিন্তু তৃণমূলের লোকজন এখানে বসে গুন্ডামি করছে। আমাদের কর্মীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়েছে।” এমনকি ‘মাথায় তিলক’ কাটা দেখে এক কর্মীকে টার্গেট করে হেনস্থা করার গুরুতর অভিযোগও তুলেছে গেরুয়া শিবির। হামলার প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, যার ফলে দু-পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়।

তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের দাবিতে কমিশনের গেটের সামনেই ধরনায় বসেন। তাঁদের দাবি, “ওই লোকটাকে গ্রেফতার না করলে আমরা এখান থেকে নড়ব না।” এই ধরনার জেরে দীর্ঘক্ষণ এলাকা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে উত্তর কলকাতার বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। দু-পক্ষের স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, গোলমালের সময় তৃণমূল সমর্থকদের বেশ কিছু বাইক ভাঙচুর করা হয়েছে।

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী নামিয়ে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায় পুলিশ। পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও দু-পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার নেপথ্যে সোমবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা একটি মন্তব্য অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। অভিষেক অভিযোগ করেছিলেন যে, বিজেপি ভিনরাজ্যের লোকেদের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা করছে। বিজেপির পাল্টা দাবি, এই ধরণের ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্যের জেরেই আজ তাঁদের কর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে শাসক ও বিরোধী দলের এই বেনজির সংঘাত রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। বর্তমানে এলাকাটি পুলিশি পাহারায় রয়েছে এবং কমিশনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

Exit mobile version