প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভেবেছিলেন, আরিজ আফতাবের মতই তিনি নির্বাচন কমিশনের মাথায় যিনি বসে আছেন, তাকে পরিচালনা করবেন। আর সেই নির্বাচন কমিশনও তার দলদাস হয়ে কাজ করবে। কিন্তু এবার যে আর তেমনটা হচ্ছে না, তা বুঝতে পেরেছেন এই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তাই এসআইআর শুরুর প্রথম দিন থেকেই তিনি কমিশনকে আক্রমণ করছেন। নিজের দলদাস প্রশাসনের বেশ কিছু আধিকারিকদের দিয়ে তিনি এসআইআর প্রক্রিয়াকে ভন্ডুল করার চেষ্টা করেছিলেন। যাতে ভুয়া ভোটারদের নাম রেখে দেওয়া যায়, তার জন্য চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু যেখানে অবৈধ কাজ হয়েছে, সেখানে চেপে ধরেছে কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সাতজন আধিকারিককে কমিশনের পক্ষ থেকেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। এমনকি রাজ্যকে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। তবে মুখে কমিশনের বিরুদ্ধে অনেক বড় বড় কথা বললেও, শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না দেখে সেই সমস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে বাধ্য হলো রাজ্য। আর সেই বিষয় নিয়েই এবার পাল্টা রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীকে তুলোধোনা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
নির্বাচন কমিশন অনেকদিন ধরেই নজর রাখছিল এই রাজ্যের দিকে। তারা প্রথমে রাজ্য প্রশাসনের ওপরেই সবটা ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন যখন দলদাসের ওপর নির্ভর হয়ে কাজ করে, তখন তাদেরকে টাইট দিতে যে কমিশনকেই ব্যবস্থা নিতে হবে, তা দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছে দেশের নির্বাচন কমিশন। আর সেই কারণে সম্প্রতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় গাফিলতির অভিযোগে রাজ্যের সাতজন আধিকারিককে কমিশন নিজে থেকেই সাসপেন্ড করেছে। তারপর রাজ্য রীতিমত চাপে পড়ে গিয়েছে। এমনকি রাজ্যকে সময়সীমা দিয়ে কমিশন জানিয়ে দিয়েছিল যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই সমস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে হবে। আর কমিশনের এই নির্দেশ অমান্য করলে যে রাজ্যের ওপর আরও চাপ আসতে পারে, তা খুব ভালো মতই বুঝতে পেরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই শেষ পর্যন্ত বহু কষ্ট, বহু অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই সমস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে রাজ্যকে এফআইআর করতে হয়েছে। আর সেই বিষয় নিয়েই এবার রাজ্য সরকারকে আরও চাপে ফেলে দিলেন বিরোধী দলনেতা।
এদিন আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কমিশনের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের এফআইআর করা প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “এফআইআর করতে তো বাধ্য। ৩২৪ থেকে ৩২৯, সংবিধান পরিষ্কার বলে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশন হচ্ছে সর্বোচ্চ। সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে যে, বৈধ লোকেদের নাম বাদ গেলে আসুন, আমরা দেখে দেব। কিন্তু এসআইআরে হাত দেব না। উনি যে সুপ্রিম কোর্টে কালো চাদর গায়ে দিয়ে গিয়েছিলেন, কি লাভ হয়েছে? ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। যেতে আপনাকে হবেই।”
