প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
আদর্শ আচরণবিধির (Model Code of Conduct) কড়া শাসনে যখন গোটা রাজ্য, ঠিক তখনই শিলিগুড়ির মেয়র তথা সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেবের একটি সরকারি কর্মসূচি ঘিরে দানা বাঁধল তীব্র বিতর্ক। শনিবারের ‘টক টু মেয়র’ অনুষ্ঠান চলাকালীন যা ঘটল, তাতে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক ও আইনি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খোদ নির্বাচন কমিশনের একটি সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলেই কি তবে ওলটপালট হয়ে গেল মেয়রের সাজানো মঞ্চ? আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকা সত্ত্বেও মেয়রের ঠিক পিছনের দেওয়ালে সগৌরবে শোভা পাচ্ছিল দলীয় নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর একটি বড় ছবি। সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহার করে এই ধরনের চিত্র প্রদর্শন নির্বাচনী বিধিভঙ্গের সামিল কি না, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। লাইভ কর্মসূচি চলাকালীনই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি ফোন আসে। কিন্তু নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর, বিতর্ক এখানেই শেষ হয়নি।
এই ঘটনায় শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী তথা বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ সরাসরি ‘প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, ভোটের দামামা বাজার পর একজন সক্রিয় প্রার্থী হিসেবে গৌতম দেব কীভাবে সরকারি মঞ্চ ব্যবহার করে ‘টক টু মেয়র’-এর মত অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারেন? শঙ্কর ঘোষের অভিযোগ, “পরাজয় নিশ্চিত জেনে কি তবে সরকারি পদের অপব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার শেষ চেষ্টা চলছে? এটি সরাসরি নির্বাচনী সমতা বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট করার অপচেষ্টা।” এই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।রাজনৈতিক মহলে এখন সবথেকে বড় জিজ্ঞাসা—নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর একজন প্রার্থী কি আদৌ কোনো সরকারি কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করতে পারেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আদর্শ আচরণবিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থী সরকারি ক্ষমতা বা প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ ব্যবহার করে জনমত গঠনের কাজ করতে পারেন না। তৃণমূলের এই পদক্ষেপকে কি তবে ‘আইনের শাসন’কে চ্যালেঞ্জ করার সামিল হিসেবে দেখা হবে?
বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি কুর্সিতে বসে নাগরিকদের সাথে এই সরাসরি কথোপকথন কি আদতে একপাক্ষিক রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কৌশল? নির্বাচন কমিশন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছে। শুধু ছবির প্রদর্শনই নয়, বরং প্রার্থী হিসেবে এই ধরনের সরকারি কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গৌতম দেবকে সরাসরি ‘শো-কজ’ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রার্থীর উপস্থিতিতে সরকারি দফতরে কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এবং এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া প্রচলিত নির্বাচনী আইনসম্মত কি না, তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। ভোটের মুখে কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তায় রীতিমত অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির। এখন দেখার, এই আইনি প্রক্রিয়ার জবাবে সংশ্লিষ্ট নেতার পক্ষ থেকে কী বয়ান পেশ করা হয় এবং কমিশন পরবর্তীতে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
