Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোটের ৬ দিন আগে ধুন্ধুমার! নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গ্রেফতার তৃণমূলের ‘হেভিওয়েট’ রাজীব দালাল, রানাঘাট জুড়ে তীব্র উত্তেজনা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক কাউন্টডাউন শুরু হতেই নদিয়ার রাজনীতিতে বড়সড় বিস্ফোরণ। নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপের জেরে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন হরিণঘাটা পুরসভার দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যান রাজীব দালাল। এদিন কল্যাণী থানার পুলিশ তাঁকে তাঁর বড়জাগুলি এলাকার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। ভোটের মাত্র ৬ দিন আগে এই হাই-প্রোফাইল গ্রেফতারি ঘিরে রীতিমত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে এলাকা।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ এপ্রিল। কল্যাণী এসডিও (SDO) অফিসে নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠক ডাকা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই বৈঠকে হরিণঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রাজীব বিশ্বাসের মনোনয়ন সংক্রান্ত স্ক্রুটিনি বা অন্য কোনো প্রক্রিয়া চলাকালীন রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে চরম বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন রাজীব দালাল। প্রশাসনের দাবি, তিনি শুধু তর্কাতর্কিই করেননি, বরং সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন এবং কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে অভব্য আচরণ ও হুমকি প্রদর্শন করেছেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কমিশনের পক্ষ থেকে কল্যাণী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই এফআইআরের ভিত্তিতেই রাজীব দালালের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, বিনা ওয়ারেন্টে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

রাজীব দালালের এই গ্রেফতারি নিছক একটি আইনি ঘটনা নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ। বিধাননগরের নির্মল দত্তের পর রাজীব দালালের এই গ্রেফতারি প্রমাণ করছে যে, ২০২৬-এর নির্বাচনে কমিশন কোনো ধরনের রাজনৈতিক পেশিশক্তি বা আধিকারিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি বরদাস্ত করবে না। রাজীব দালাল হরিণঘাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তৃণমূলের সংগঠনের অন্যতম স্তম্ভ। ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে তাঁর অনুপস্থিতি দলীয় কর্মীদের মনোবল ধাক্কা দিতে পারে, যা বিশেষত রানাঘাট লোকসভা ও হরিণঘাটা বিধানসভা এলাকায় প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপি ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে ‘তৃণমূলের হার নিশ্চিত’ হওয়ার লক্ষণ হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, হার নিশ্চিত জেনেই শাসকদলের নেতারা এখন প্রশাসনিক আধিকারিকদের ভয় দেখাচ্ছেন। নির্বাচনের ঠিক আগে এহেন ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদিকে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে ভোটারদের মধ্যে সুরক্ষার অনুভূতি কাজ করছে, অন্যদিকে শাসক শিবিরের দাবি এটি ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’।

তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব ও রাজীব দালালের পরিবার এই গ্রেফতারিকে পুরোপুরি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে। তাঁদের দাবি, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। বর্তমানে এলাকা জুড়ে ব্যাপক কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের টহল চলছে। এই গ্রেফতারির জল কতদূর গড়ায় এবং ভোটের ফলে এর কী প্রভাব পড়ে, এখন সেটাই দেখার।

Exit mobile version