Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

কমিশনকে হুঁশিয়ারি! মেজাজ হারিয়ে কি প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা চাইছেন তৃণমূল নেত্রী?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্যের প্রশাসনিক রাশ এখন ভারতের নির্বাচন কমিশনের হাতে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিশন ইতিমধ্যেই রাজ্যের বেশ কিছু বিতর্কিত পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিককে সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু কমিশনের এই নিরপেক্ষ পদক্ষেপ কি মেনে নিতে পারছেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? বৃহস্পতিবার পাণ্ডবেশ্বরের নির্বাচনী জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে মেজাজ হারিয়ে সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং নতুন দায়িত্ব নেওয়া আধিকারিকদের নিশানা করলেন, তাতে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা দেখছে রাজনৈতিক মহল।

এদিন পাণ্ডবেশ্বরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, “সব ওসিকে পাল্টাচ্ছে। সব বিডিও চেঞ্জ, সব এসপি চেঞ্জ, সব ডিএম চেঞ্জ… বিজেপির পার্টি অফিস থেকে বলে দেওয়া হচ্ছে কারা হবে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন মুখ্যমন্ত্রী যখন প্রকাশ্যে কমিশনের নিয়োগ করা আধিকারিকদের ‘বিজেপির লোক’ বলে দাগিয়ে দেন, তখন সেই অফিসারদের কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। নবান্নের হাত থেকে রাশ আলগা হওয়াতেই কি তিনি এভাবে প্রশাসনিক আধিকারিকদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছেন? এদিন তাঁর গলায় শোনা গেছে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি— “আপনারা মনে রাখবেন, রাজ্যটা পশ্চিমবঙ্গ। এটা কিন্তু আপনাদেরও রাজ্য।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নতুন অফিসারদের কি পরোক্ষভাবে দেখে নেওয়ার হুমকি দিলেন? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষকে তাঁর দেওয়া ‘নিদান’ ঘিরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে মা-বোনেদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ভোটগ্রহণ এবং গণনার দিন কেউ যদি বলপ্রয়োগ করে আপনারা জোট বাঁধবেন… রুখে দাঁড়াবেন, যার যা বাড়িতে আছে নিয়ে বেরোবেন।” একজন সাংবিধানিক প্রধান হয়ে সাধারণ মানুষকে ‘বাড়িতে যা আছে তাই নিয়ে’ রাস্তায় নামার পরামর্শ দেওয়া কি আদতে রাজ্যে দাঙ্গা বা হিংসার উসকানি নয়? বিজেপির দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং কমিশন যেখানে নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিচ্ছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী কেন সমান্তরালভাবে মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে বলছেন? পরাজয় নিশ্চিত জেনেই কি তিনি রাজ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাইছেন?

এদিনও বরাবরের মত ‘বিজেপি ঘনিষ্ঠ’ তকমা দিয়ে কমিশনকে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “বিজেপির কথায় সব ঠিক করবেন ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন, এটা চলতে পারে না।” কিন্তু রাজনৈতিক মহলের পালটা প্রশ্ন, গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গে শাসকদলের যে একাধিপত্য কায়েম হয়েছিল, তা কি সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ? আজ যখন কমিশন সেই ‘একতরফা’ ব্যবস্থা ভাঙতে চাইছে, তখনই কেন মুখ্যমন্ত্রী এত সরব?

পাণ্ডবেশ্বরের সভা থেকে মমতার এই রণমূর্তি প্রমাণ করে দিচ্ছে, এবারের নির্বাচন তাঁর জন্য কতটা কঠিন। একদিকে জনরোষ, অন্যদিকে কমিশনের কড়া নজরদারি— এই সাঁড়াশি চাপে পড়েই কি তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন? নিরপেক্ষ প্রশাসনকে কাজ করতে না দেওয়া এবং সাধারণ মানুষকে প্ররোচিত করার এই সংস্কৃতি বাংলার জন্য কতটা সুখকর হবে, তা নিয়ে এখন চিন্তিত সাধারণ নাগরিক সমাজ। ভোটের দিন কি সত্যিই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের জেরে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম দেখবে বাংলা? উত্তর দেবে সময়।

Exit mobile version