Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

তালা ভাঙতেই চোখ চড়কগাছ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর! বিধাননগরে সরকারি অফিসের গোপন ঘরে মিলল এমন জিনিস, যা দেখে বললেন ‘এ বয়সে দেখা পাপ!’

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই। আর পাঁচটা সাধারণ সরকারি দপ্তরের মতোই শান্ত পরিবেশ। কিন্তু দীর্ঘ দুই মাস পর সেই অফিসের দরজার তালা ভাঙতেই ভেতরে যা দেখা গেল, তাতে রীতিমতো স্তম্ভিত উপস্থিত সবাই। সরকারি জনপরিষেবা কেন্দ্রের আড়ালে সেখানে রমরমিয়ে চলছিল অন্য কোনো ‘ব্যবসা’? বিধাননগর পুরনিগমের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যালয়টি খোলার পর ঠিক এই রহস্যময় প্রশ্নই এখন কাঁপিয়ে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিকে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিধান নগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন-এর ওই নির্দিষ্ট ওয়ার্ড অফিসটি পরিদর্শনে যান রাজ্যের বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। কার্যালয়ের মূল ঘরের সঙ্গে লাগোয়া একটি গোপন কক্ষের দরজা খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় তাঁর। ভেতরের দৃশ্য দেখে হতবাক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “আমার বয়স হয়েছে, এই বয়সে এসে সরকারি অফিসে এমন জিনিস দেখাও পাপ। এ বার পরিষ্কার বুঝতে পারলাম এখানে কেন এমন শয়নকক্ষ সাজিয়ে রাখা হয়েছিল!” অফিসটি অপবিত্র হয়ে গেছে দাবি করে তিনি এটিকে গঙ্গাজল দিয়ে ধুয়ে অবিলম্বে শুদ্ধকরণ করার দাবি জানান।

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন তৃণমূল কাউন্সিলর জয়দেব নস্কর আর এই অফিসে আসছিলেন না। দীর্ঘদিন অফিস বন্ধ থাকায় পুর-পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল। বাসিন্দাদের অভিযোগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দলীয় কর্মীদের নিয়ে সেখানে পৌঁছান। তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায়, পুরো অফিস জুড়ে ৫টিরও বেশি এসি (AC) এবং দামি সোফা সেট। কিন্তু আসল চমক অপেক্ষা করছিল ভেতরের গোপন ঘরটিতে। সেখানে পাতা ছিল অত্যন্ত বিলাসবহুল বিছানা, বালিশ ও চাদর। আর সেই ঘরের ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার খুলতেই বেরিয়ে আসে সারি সারি কন্ডোমের প্যাকেট ও নারীদের প্রসাধন সামগ্রী।

সরকারি দপ্তরের ভেতরে এই ধরনের আমোদ-প্রমোদের পরিকাঠামো উদ্ধার হওয়া নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপি ও বিরোধী শিবিরের তরফে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের দিকেই সরাসরি অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। তবে এই চরম অস্বস্তিকর ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বা অভিযুক্ত প্রাক্তন কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একটি সরকারি দপ্তরের মর্যাদা এভাবে ক্ষুণ্ণ করার পেছনে কারা জড়িত, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি উঠেছে।

Exit mobile version