প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সর্বভারতীয় রাজনীতিতে দল ভাঙা-গড়ার জল্পনা নতুন কিছু নয়, তবে কিছু কিছু জল্পনা যে কতটা অবাস্তব হতে পারে, তা এবার স্পষ্ট করে দিল কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। রাজনৈতিক মহলে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গুঞ্জন ছড়াচ্ছিল যে, নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখতে নাকি আস্ত দলটাকেই দিল্লির কংগ্রেসের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার তলে তলে চেষ্টা চালাচ্ছে ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু সেই জল্পনায় এক বালতি ঠাণ্ডা জল ঢেলে দিল দিল্লির হাত শিবির। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব অত্যন্ত কড়া ভাষায় এবং তড়িঘড়ি ময়দানে নেমে এই খবরকে “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অসত্য” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কে.সি. ভেনুগোপাল থেকে শুরু করে জয়রাম রমেশদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার—অন্য কোনো দলের অভ্যন্তরীণ সংকটের বোঝা নিজেদের কাঁধে নিতে তারা একেবারেই নারাজ।
দিল্লি দরবারে সোনিয়া গান্ধী বা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতাদের সাম্প্রতিক বৈঠককে যাঁরা অন্য সমীকরণের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তাঁদের সেই দাবিতে জল ঢেলে দিয়েছেন স্বয়ং কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে.সি. ভেনুগোপাল। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ও তীক্ষ্ণ ভাষায় জানিয়ে দেন, দুই দলের সংযুক্তিকরণের কোনো প্রশ্নই ওঠে না এবং এই ধরণের খবরের কোনো সত্যতা নেই।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেস শিবিরের এই অবস্থান অত্যন্ত চতুর এবং কৌশলগত। কংগ্রেসের প্রচার ও জনসংযোগ বিভাগের প্রধান জয়রাম রমেশ সমাজমাধ্যমে সাফ জানিয়েছেন, বৈঠকটি ছিল মূলত দীর্ঘদিনের সম্পর্কের খাতিরে সৌজন্যমূলক এবং ব্যক্তিগত। জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী কৌশল নিয়ে কথা হলেও, দলের অস্তিত্ব বিলীন করার মতো কোনো আলোচনা সেখানে হয়নি।
কংগ্রেস নেতৃত্ব খুব ভালো করেই জানে, জনমানসে বা রাজনৈতিকভাবে ব্যাকফুটে থাকা কোনো শক্তির সঙ্গে নাম জড়ালে বা সংযুক্তির পথে হাঁটলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই শুরুতেই এই জল্পনার টুঁটি চেপে ধরেছে হাত শিবির। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচন পরবর্তী বিপর্যয় এবং দলের ভেতরে একের পর এক সাংসদ-বিধায়কদের প্রকাশ্য বিদ্রোহের পর এখন রাজনৈতিক জমি ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাক্তন শাসক শিবিরের কাছে। একদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ, অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচতেই হয়তো কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূতকরণের এই জল্পনা তৈরি হয়েছিল বা ছড়ানো হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেস অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এই রাজনৈতিক ট্র্যাপ এড়িয়ে গেছে। তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, বঙ্গে ক্ষমতার হাতবদল এবং নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে হাওয়া চলছে, তার বিরুদ্ধে গিয়ে তারা কোনো ভুল পদক্ষেপ নেবে না।
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একদা ক্ষমতার শীর্ষে থাকা দলটির বিদ্রোহী শিবির আবার দাবি করছে যে তারাই নাকি ‘আসল’ দল এবং কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না! কংগ্রেস নেতৃত্ব অবশ্য এই অভ্যন্তরীণ আসল-নকলের বিবাদ থেকে নিজেদের দূরেই রেখেছে। ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার পর যে এভাবে নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে টানাটানি তৈরি হবে, তা হয়তো অনেকেই ভাবেনি। কংগ্রেস নেতাদের এই কড়া ও স্পষ্ট অন-রেকর্ড বয়ান আসলে প্রমাণ করে দিল—রাজনীতিতে সুবিধাবাদ ও নীতিহীনতার দিন ফুরিয়ে আসছে।
