প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জেরে দেশব্যাপী আন্দোলনের আঁচ আজ আছড়ে পড়ল খোদ তিলোত্তমায়। নির্বাচন কমিশনারদের লিখিত আপত্তিকে অগ্রাহ্য করে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিবাদে এবং ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে আজ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) দুপুরে কলকাতার রাজপথে দুটি পৃথক ও বিশাল প্রতিবাদ মিছিল নামায় বিরোধী শিবির।
এদিন দুপুরে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের ডাকে কলকাতার ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটির কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। দেশব্যাপী আন্দোলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই মিছিলের মূল দাবি ছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে গ্রেফতারি ও পদত্যাগ। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে, এআইসিসি ইনচার্জ প্রকাশ জোশি ও প্রবীণ নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে এই মহামিছিলটি ‘ভোট চোর’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে সেন্ট্রাল কলকাতার দিকে এগোতে থাকে। Strand Road-এ অবস্থিত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দপ্তরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া এই মিছিলটিকে বিপুল পুলিশ বাহিনী বিবি গাঙ্গুলী স্ট্রিট ক্রসিংয়ের কাছে (বউবাজার এলাকা) ব্যারিকেড দিয়ে মাঝপথেই আটকে দেয়। পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তির পর কংগ্রেস কর্মীরা রাজপথেই বসে পড়েন এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুতুল দাহ করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।
কংগ্রেসের আন্দোলনের সমান্তরালে এদিন কলকাতার রাজপথে বড়সড় প্রতিরোধ গড়ে তোলে ভারতের গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি (AIDWA) তথা সিপিএম-এর মহিলা নেতৃত্ব ও বামপন্থী সংগঠনগুলি। তাঁদের প্রতিবাদের মূল তির ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ার ওপর। বামপন্থী নেত্রীদের অভিযোগ, এই ত্রুটিপূর্ণ SIR প্রক্রিয়ার নাম করে সম্পূর্ণ ‘বৈধ’ ও প্রান্তিক স্তরের বহু নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বেআইনিভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই জালিয়াতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ধর্মতলা সংলগ্ন এলাকা থেকে মিছিল করে এসে বউবাজারের রাস্তায় মূল সড়ক অবরুদ্ধ করে ধর্নায় বসেন মহিলা সমিতির কর্মী-সমর্থকেরা। আন্দোলনের জেরে সেন্ট্রাল কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে বাম মহিলা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে রাজ্যের সিইও (CEO) দফতরে গিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া বৈধ নাগরিকদের নাম অবিলম্বে পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি ও দাবিপত্র জমা দেওয়া হয়।
