Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

তোলাবাজি রুখতে নবান্নের কড়া বার্তা, তাও দেগঙ্গা থেকে শিলিগুড়িতে জমি দখলের মারাত্মক অভিযোগ! খোলস বদলালেই কি মাফিয়ারা পার পেয়ে যাবে?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে তোলাবাজি, দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেট রাজের অবসান ঘটাতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেখানে বারবার ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার কড়া হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, ঠিক তখনই দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গে উঠল জমি দখলের মারাত্মক দুটি অভিযোগ। একদিকে উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় এক কলেজ অধ্যাপিকার পৈতৃক জমি দখল করার চেষ্টা করছে স্থানীয় কিছু বিজেপি নেতাকর্মী। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে খোদ বিজেপি সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে উঠেছে বেআইনিভাবে জমি মাফিয়াগিরি করার মারাত্মক অভিযোগ। শীর্ষস্তরের এত কড়া বার্তার পরেও কেন নিচের তলায় এই ধরণের ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

এই জোড়া অভিযোগ নিয়ে এবার অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। রাজনৈতিক মহলের একাংশ জানতে চাইছেন—ক্ষমতার অলিন্দে থাকা দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব যতই সৎ এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের ডঙ্কা বাজাক না কেন, নিচের তলার রাশ কি তবে আলগা হতে শুরু করেছে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, বিগত সরকারের জমানায় যে সমস্ত সিন্ডিকেট অপারেটর, তোলাবাজ এবং জমি মাফিয়ারা বুক ফুলিয়ে অপরাধ করত, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তারা রাতারাতি খোলস বদলে গেরুয়া শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। দলবদল করলেই কি সমস্ত অপরাধ ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যায়? বিশ্লেষকেরা স্পষ্ট বলছেন, তৃণমূল জমানার চাটুকার ও সুযোগসন্ধানীদের একটা বড় অংশ এখন বিজেপির নিচের তলার পতাকা হাতে তুলে নিয়েছে এবং দলের নাম ভাঙিয়ে এই ধরণের নোংরা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। শীর্ষ নেতৃত্ব যদি এই ‘অনুপ্রবেশকারী’ মাফিয়াদের চিহ্নিত করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করতে না পারে, তবে বিগত জমানার অপশাসনের সঙ্গে বর্তমান জমানার তফাতটা কোথায় থাকবে—সেই মারাত্মক প্রশ্নটাই এখন তুলে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই জোড়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই ময়দানে নেমে পড়েছে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, “বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চারিদিকে তোলাবাজি আর জমি মাফিয়াদের রাজত্ব শুরু হয়েছে। মুখে রাজধর্মের কথা বললেও কাজের বেলায় তাদের নেতারাই সাধারণ মানুষের সম্পত্তি লুঠ করছে।” পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিজেপি শিবিরও। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের অবস্থান অনুযায়ী, ভারতীয় জনতা পার্টি তোলাবাজি বা জমি দখলের নোংরা রাজনীতিকে এক চুলও রেয়াত করবে না। দেগঙ্গা ও শিলিগুড়ির ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের সাফ কথা—আইন সবার জন্য সমান এবং অপরাধীর কোনও দল হয় না। বিজেপি চোর বা মাফিয়াদের আড়াল করার সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন ইতিমধ্যেই পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, দলীয় পরিচয় না দেখে যেন ঘটনার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত করা হয় এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হয়।

রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে অস্ত্র করে যতই রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করুক না কেন, নবান্ন যেভাবে কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে এবং নিজেদের দলের লোকেদের বিরুদ্ধেও তদন্তের পূর্ণ স্বাধীনতা দিচ্ছে, তা বর্তমান প্রশাসনের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকেই রক্ষা করছে। তবে নিচের তলার এই ‘উইপোকা’দের দমন করতে না পারলে, এই ধরণের গঠনমূলক সমালোচনা যে বারবার ধেয়ে আসবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।

Exit mobile version