Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘ডামি বিরোধী’ তৈরির বিপজ্জনক খেলা! বাঙালির রাজনৈতিক চেতনার কাছে শুভেন্দুর এই চাল কি টিকবে?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে মে ২০২৬-এর নির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তরের মাত্র চার মাসের মধ্যেই রাজ্য রাজনীতি এক নতুন জটিল আবর্তের মুখোমুখি। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তৃণমূলের মূল নাম ও প্রতীক ফ্রিজ হওয়া এবং একের পর এক প্রার্থীর নাটকীয় দলত্যাগের পর রাজনৈতিক মহলে এক নতুন গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আর তা হলো—শাসক দল কি নিজের সুবিধার্থে রাজ্যে একটি নরমপন্থী বা ‘ম্যানেজড অপজিশন’ (নিয়ন্ত্রিত বিরোধী) তৈরি করতে চাইছে? তবে বাংলার রাজনীতির ইতিহাস বলছে, সচেতন বাঙালি ভোটারের মনস্তত্ত্বের কাছে এই ছায়া-বিরোধিতার খেলা দীর্ঘমেয়াদে বুমেরাং হতে বাধ্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যেকোনো শক্তিশালী শাসক দলই চায় না এমন কোনো বিরোধী শক্তি ময়দানে থাকুক যা তাদের শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে। এই কারণেই অনেক সময় মূল ও আক্রমণাত্মক প্রতিপক্ষকে আইনি বা সাংগঠনিক সাঁড়াশি চাপে পঙ্গু করে দিয়ে, এমন কিছু নরমপন্থী বা আপোশকারী অংশকে বিরোধী হিসেবে স্পেস দেওয়া হয়, যারা সরকারের জন্য কোনো বড় মাথাব্যথার কারণ হবে না। শুভেন্দু অধিকারীর বর্তমান রণনীতিতেও কি তেমনই কোনো ইঙ্গিত লুকিয়ে রয়েছে? যদি প্রকৃত প্রতিবাদের কণ্ঠস্বরকে কোণঠাসা করে একটি নিয়ন্ত্রিত বিরোধী বলয় তৈরির চেষ্টা হয়, তবে তা সুস্থ সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য চরম অশনিসংকেত।

এই কৌশলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের প্রখর রাজনৈতিক চেতনা। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলার মানুষ তীব্র বিরোধী রাজনীতি এবং রাজপথের লড়াই দেখেই অভ্যস্ত। ভোটাররা যখনই টের পান যে রাজপথের প্রকৃত প্রতিবাদের জায়গাটা শাসক দল নিজের সুবিধামতো আড়াল বা নিয়ন্ত্রণ করছে, এবং সামনে যাদের বিরোধী হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে তারা আসলে ‘ডামি’, তখনই জনমানসে এক তীব্র ক্ষোভের জন্ম হয়। মানুষ তখন এই সাজানো রাজনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ নতুন কোনো বিকল্প বা উগ্র শক্তির খোঁজ করতে শুরু করে। অতীতেও যখনই মূল ধারার বিরোধীদের স্পেস কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তখনই বিকল্প শক্তির তরতরিয়ে উত্থান ঘটেছে। ফলে, কোনো ‘ম্যানেজড’ বিরোধী দিয়ে সচেতন বাঙালিকে বেশিদিন ভুলিয়ে রাখা অসম্ভব।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে একজন আন্দোলন থেকে উঠে আসা বাস্তববাদী জননেতা। তিনি খুব ভালো করেই জানেন, একটি সফল ও দীর্ঘস্থায়ী সরকারের জন্য ‘পকেট-স্থ বিরোধী’ নয়, বরং কঠোর সমালোচনা করতে পারা প্রকৃত বিরোধী শক্তির প্রয়োজন। তা না হলে ক্ষমতার ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হবে এবং সরকারও ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন ও স্বৈরাচারী তকমা পেয়ে বসবে। নিজের সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ভাবমূর্তি ও সাফল্যের স্বার্থেই বর্তমান প্রশাসনের উচিত বিরোধীদের নিজস্ব গণতান্ত্রিক স্পেস দেওয়া, কোনো কৃত্রিম বা নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি না করা।

Exit mobile version