Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

সাতসকালে রণক্ষেত্র যাদবপুর! বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়ি লক্ষ্য করে বোতল-বৃষ্টি, সিসিটিভি ভাঙচুর!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সিপিআইএম (CPIM) নেতা তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের কলকাতার বাসভবনে সাতসকালে এক ভয়াবহ ও পরিকল্পিত দুষ্কৃতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ, বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৫টা নাগাদ কলকাতার ই এম বাইপাস সংলগ্ন পূর্ব যাদবপুর থানা এলাকার পূর্বালোকে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব বাড়ি লক্ষ্য করে এই অতর্কিত আক্রমণ চালানো হয়। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, ভোরবেলা তিনি যখন ঘুমোচ্ছিলেন, তখন তাঁর বাড়িতে কর্মরত এক পরিচারিকা আতঙ্কিত হয়ে তাঁকে ডেকে তোলেন এবং জানান যে বাড়ির ওপর হামলা হচ্ছে। বাইরে বেরিয়ে তিনি দেখেন, তাঁর বাড়ির সামনের জানলার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে ঘরের ভেতর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। দুষ্কৃতীরা বাড়ির অন্তত ৩টি জায়গার জানলার কাচ ভেঙে দেয় এবং বাড়ির বাইরের সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরাও গুঁড়িয়ে দেয়।

ইতিমধ্যেই এই হামলার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে (যার সত্যতা সংবাদমাধ্যম স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি)। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, মুখে কাপড় ও গামছা বাঁধা অবস্থায় এক দুষ্কৃতী মোটরবাইকে করে আসে। তার হাতে একটি সাদা ব্যাগ ছিল। বাইকটি বাড়ির সামনে দাঁড় করিয়ে ব্যাগ থেকে একের পর এক কাচের মদের বোতল (বিয়ারের বোতল) বার করে সে অত্যন্ত হিংস্রভাবে জানলা লক্ষ্য করে ছুড়তে থাকে। বোতল ছোড়ার পাশাপাশি দুষ্কৃতীরা অত্যন্ত নোংরা ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। সিসিটিভি ফুটেজে এক দুষ্কৃতীকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “আমরা হলাম দেশভক্ত। আমাদের পিছনে লাগবি না, দেখে নেব।” মোটরবাইকের নাম্বার প্লেট এবং নিজেদের মুখ ঢেকে এসেছিল, যাতে তাদের চট করে চেনা না যায়।

এই কাপুরুষোচিত হামলার পর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ তুলে তিনি সরাসরি সংবাদমাধ্যমকে বলেন— “যা হয়, হিন্দুত্ববাদীরা যা করে আর কী। অশ্রাব্য গালাগালি। বলছে আমরা ভারত মায়ের সন্তান, আমাদের পিছনে লেগেছিস? দেখে নেব। ওরা আমাকে নাকি শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে। যাঁরা গরিব মানুষের হয়ে আইনি লড়াই করছেন, তাঁদের ওপরই এভাবে হামলা করা হচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই গুন্ডারা জেনে রাখুক, এই সমস্ত সন্ত্রাসী হামলা করে বিকাশ ভট্টাচার্যকে ভয় দেখানো যাবে না।”

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর এক অত্যন্ত নজিরবিহীন ও বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন প্রবীণ এই আইনজীবী। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি নিজেই এবার অস্ত্র তুলে নেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান— “আমি পরিষ্কার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এবার আমি কলকাতার পুলিশ কমিশনারের (নগরপাল) কাছে রিভলবারের (আগ্নেয়াস্ত্র) লাইসেন্স চাইব। আমার কাছে রিভলবার থাকবে, আশপাশে যাঁদের (দুষ্কৃতী) দেখব তাঁরা যেন প্রস্তুত থাকে।”

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পূর্ব যাদবপুর থানার পুলিশ দ্রুত বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়িতে পৌঁছায়। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভাঙা বোতলের নমুনা সংগ্রহ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, কলকাতার একজন প্রবীণ আইনজীবীর বাড়িতে এই ধরণের হামলায় ক্ষুব্ধ আইনজীবী মহলও। জানা গেছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের নজরে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আইনজীবীদের একাংশ।

Exit mobile version