প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগে সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে যে রায় দিয়েছে, তাতে রীতিমত চাপে রয়েছে রাজ্য সরকার। তারা একের পর এক ভাতা বাড়ালেও সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বকেয়া ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার কথা রাজ্যকে বলেছে, সেই ব্যাপারে কোনো তৎপরতা রাজ্যের পক্ষ থেকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল যে, রাজ্য এক্ষেত্র পালানোর কোনো পথ খুঁজছে না তো? এই ব্যাপারে গতকাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি বিচারাধীন বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট যেখানে রায় দিয়ে দিয়েছে, যেখানে বিচার ব্যবস্থা সমাপ্ত হয়ে গিয়েছে, তারপরেও কেন মুখ্যমন্ত্রী এটাকে বিচারাধীন বলে মন্তব্য করলেন না? কেন তিনি এড়িয়ে গেলেন. তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। আর সেই বিষয়টি নিয়েই আজ মুখ্যমন্ত্রীকে পাল্টা কটাক্ষ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
যেদিন সুপ্রিম কোর্ট এই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে রায়দান করেছে, সেদিন থেকে সকলের মধ্যেই একটা সংশয় তৈরি হয়েছে। সকলেই বলছেন, এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট এই ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলো। কিন্তু রাজ্য নানা কৌশল বেছে নিয়েছিল। এবারও রাজ্য সেই রকম কিছু করবে না তো? কিন্তু চূড়ান্ত রায় হয়ে যাওয়ার পর রাজ্যের পালানোর আর কোনো রাস্তা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা থেকে শুরু করে আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীরা। তবে সেই রায় হয়ে যাওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে বিচারাধীন বিষয় বলে মন্তব্য করলেন না, যেভাবে তিনি এড়িয়ে গেলেন, তাতে মনে করা হচ্ছে যে, অন্য কোনো পথ খুঁজতে চাইছে এই রাজ্যের সরকার, যাতে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দিতে না হয়। আর এই পরিস্থিতিতে আজ সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। আর সেখানেই গতকাল মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে বিচারাধীন বিষয় বলে এড়িয়ে গিয়েছেন, তাকে খন্ডন করে দেন তিনি। শুভেন্দুবাবু বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে ডিএ ক্লোজ চ্যাপ্টার। সাংবাদিক বৈঠকে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ডিএ মামলা এখনও বিচারাধীন। আমি ওনাকে বলতে চাই, এটা আর বিচারাধীন বিষয় নয়। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। কিভাবে এরিয়ার দিয়ে ডিএ মেটাতে হবে। তার পুরো রুপরেখা শীর্ষ আদালত বলে দিয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বারবার বিচারব্যবস্থাকে অপমান করেছেন। মার্চের মধ্যে ২৫ শতাংশ টাকা যদি না দেন, তাহলে আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।”
