প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যে যে আইনের শাসন চলে না, শাসকের যে আইন চলে, তা এতদিন দেখে এসেছে বাংলার মানুষ। কিন্তু সামনেই নির্বাচন। আর বর্তমানে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা অবলম্বনের অঙ্গ হিসেবে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের নেতা, নেত্রীরা হুমকি হুঁশিয়ারি দিয়েই চলেছেন। এমনকি কখনও কখনও ঘটে যাচ্ছে আইন হাতে তুলে নেওয়ার মত ঘটনা। সম্প্রতি তৃণমূল কর্মীদের নিয়ে ফারাক্কায় ভিডিও অফিসের ভেতরে ঢুকে যে অসভ্যতা তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম করেছিলেন, তারপর প্রশ্ন উঠেছিল, তার বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না? কেন পুলিশ সবকিছু দেখেও চুপচাপ থাকবে? কেন নির্বাচন কমিশন আইন হাতে তুলে নেওয়ার পরেও এই তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাঁটবে না? তবে অবশেষে তৃণমূল বিধায়ক হলেও, তার দাদাগিরি যে বরদাস্ত করা হবে না, তা বুঝিয়ে দিয়ে সেই মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে রীতিমত সময়সীমা বেঁধে দিলো নির্বাচন কমিশন।
প্রসঙ্গত, এসআইআর শুনানি প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু মানুষকে ডাকা হলেও, তৃণমূলের ছটফটানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা বুঝতে পারছে যে, অবৈধ ভোটারদের নাম এবার ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে। আর সেই কারণেই এতদিন হুমকি, হুঁশিয়ারি দিতে শুরু করেছিলেন তৃণমূলের নেতা নেত্রীরা। কিন্তু সম্প্রতি ফারাক্কায় বিডিও অফিসে ঢুকে যে তাণ্ডব তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম এবং তার অনুগামীরা চালিয়েছিলেন, তারপরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে কেন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না? তবে অবশেষে সেই ঘটনায় বড় পদক্ষেপ নিয়ে নিলো নির্বাচন কমিশন। যার ফলে এবার জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে কোনো উপায় না দেখে তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে মুর্শিদাবাদের জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে একটি নির্দেশ এসেছে। যেখানে তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম, যিনি সম্প্রতি ফারাক্কায় বিডিও অফিসে ঢুকে তার অনুগামীরাও ভাঙচুর চালিয়েছিলেন, সেই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন। যেখানে বিকেল ৫ টার মধ্যে এই এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি শুধু এফআইআর দায়ের করাই নয়, এই ব্যাপারে গোটা ঘটনায় রিপোর্ট দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূল বিধায়ক যে আইন হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাপে পড়ে গেলেন, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
