Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

দমদমে ব্রাত্যর ‘কড়া’ শাসন! গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার তৃণমূল?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বিধানসভা ভোটের রণদামামা বাজতেই খোদ রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী তথা দমদমের দাপুটে নেতা ব্রাত্য বসুর একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। দমদমে তৃণমূলের অন্দরে যে চরম ডামাডোল এবং গোষ্ঠীকোন্দল চলছে, তা আর গোপন রইল না খোদ বিধায়কের কথাতেই। একটি কর্মীসভার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নিজের কর্মীদের ওপরেই চরম মেজাজ হারিয়েছেন ব্রাত্য বসু। ভিডিওতে (যার সত্যতা যাচাই করেনি আমাদের পোর্টাল) মন্ত্রীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “কর্মীরা এখানে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন। দল অনেকগুলো গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।” দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীরা দমদম এলাকায় তৃণমূলের অন্তর্কন্দল নিয়ে যে অভিযোগ করে আসছিল, মন্ত্রীর এই মন্তব্য যেন তাতে সিলমোহর দিল।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬-এর লড়াইয়ে দমদমে নিজেদের পায়ের তলার জমি যে শক্ত নয়, তা ব্রাত্য বসুর কথাতেই স্পষ্ট।
শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করেই থেমে থাকেননি মন্ত্রী। রীতিমতো ‘পুরস্কার ও তিরস্কারের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি সাফ জানান, “আমি আমার ভোটে গোষ্ঠীবাজি মানব না।” অর্থাৎ, বিধানসভা ভোটে দলের ফলাফল যদি আশানুরূপ না হয়, তবে তার দায় যে স্থানীয় নেতাদের ওপর বর্তাবে, তা তিনি আগেভাগেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৭-এর পুরভোটের টিকিট নিয়ে মন্ত্রীর প্রচ্ছন্ন হুমকি। ব্রাত্যবাবু জানিয়েছেন, বিধানসভা ভোটের শেষে প্রতিটি বুথের ফলাফল তিনি নিজে খতিয়ে দেখবেন এবং সেই রিপোর্ট সরাসরি পাঠাবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই ঠিক হবে ২০২৭ সালে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে কাকে পুর প্রতিনিধি বা কাউন্সিলর করা যেতে পারে।
এই ভিডিও সামনে আসতেই কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, যে দলে গণতন্ত্র নেই, সেখানে টিকিট পাওয়ার জন্য বুথ স্তরের কর্মীদের এভাবেই ভয় দেখানো হচ্ছে। মানুষের কাজ করার চেয়ে টিকিট বাঁচানোর লড়াইয়েই এখন ব্যস্ত তৃণমূলের কর্মীরা।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, বিরোধীদের ওজনদার প্রার্থী দমদমে আসায় বেশ চাপে রয়েছেন ব্রাত্য বসু। সেই চাপ সামলাতেই এবং ছন্নছাড়া কর্মীদের একজোট করতেই তিনি এই কঠোর সুর অবলম্বন করেছেন। এখন দেখার, মন্ত্রীর এই ‘হুঁশিয়ারি’ আদতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে পারে নাকি দলের ভেতরের ফাটল আরও বাড়িয়ে দেয়।

Exit mobile version