Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

দমদমে হঠাৎ মারুতির মন্দিরে শুভেন্দু! মনোনয়ন জমার আগে কোন ‘বজ্র’ হানা? তুঙ্গে জল্পনা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পুরাণে কথিত আছে, ত্রেতাযুগে লঙ্কা জয়ের আগে শ্রীরামচন্দ্র পবনপুত্র হনুমানকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আসুরিক শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে ধর্মের জয়ধ্বজা ওড়াতে বজরংবলীর গদাই ছিল রামভক্তদের প্রধান ভরসা। কলিযুগের এই নির্বাচনী সমরেও কি তবে সেই একই পৌরাণিক কৌশলের পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে দমদমের মাটিতে?আজ, ৬ এপ্রিল ২০২৬, সাতসকালে যখন দমদমের রাজপথ গেরুয়া পতাকায় মুড়ে ফেলা হয়েছে, ঠিক তখনই সকলকে চমকে দিয়ে সোজা মারুতির মন্দিরে পৌঁছে গেলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন আজকের দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ, বিজেপি প্রার্থী আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।

মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার আগে হনুমানজির বিগ্রহের সামনে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান শুভেন্দু। প্রদীপের আলোয় যখন আরতি সারছেন, তখন তাঁর চোখেমুখে ছিল এক দৃঢ় সংকল্পের ছাপ। রাজনৈতিক মহলের মতে, লড়াকু তরুণজ্যোতিকে পাশে নিয়ে শুভেন্দুর এই মন্দির দর্শন নিছক প্রথা নয়। পৌরাণিক মতে হনুমান হলেন ‘সঙ্কটমোচন’—অর্থাৎ যিনি সব বাধা দূর করেন। শুভেন্দু কি তবে দমদমের রাজনৈতিক বাধাগুলো কাটানোর প্রার্থনা করলেন? মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঠিক আগে মারুতির শরণাপন্ন হওয়া কি তবে কোনো বড় ‘গেম-প্ল্যান’-এর ইঙ্গিত?

দমদম কেন্দ্রে লড়াই এবার সম্মানের। সেই লড়াইয়ে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি, লড়াকু আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারিকে সামনে রেখে বিজেপি যে অল-আউট ঝাঁপাতে চাইছে, তা শুভেন্দুর উপস্থিতি থেকেই স্পষ্ট। মন্দির চত্বরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর সেই পরিচিত আত্মবিশ্বাসী মেজাজ দেখে রাজনৈতিক কর্মীদের একাংশ মনে করছেন, আজ মনোনয়নের মিছিল থেকেই বড় কোনো ‘বজ্র’ হানা দিতে পারেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীকে আগেও দেখা গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে মন্দিরে পুজো দিতে। তাঁর এই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কৌশলের মিশেল বিরোধীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দমদম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ক্ষেত্র। এখানে জয় নিশ্চিত করতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। আজকের এই পুজো কি কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা জাগিয়ে তুলল? পবনপুত্রের আশীর্বাদ নিয়ে কি তবে দমদমের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে চলেছেন তরুণজ্যোতি? শুভেন্দুর এই মন্দির-দর্শনের খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তবে কি আজ মনোনয়নের দিনেই বড় কোনো চমক দিতে চলেছে বিজেপি? বিরোধীদের অস্বস্তি কি তবে বাড়ছে? শুভেন্দুর এই পদক্ষেপে কি প্রতিপক্ষ শিবিরে চোরা আতঙ্কের সৃষ্টি হলো? মনোনয়ন পর্বের উত্তেজনার মধ্যেই এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে চারদিকে।

গেরুয়া শিবিরের দাবি, “বজরংবলীর গদাতেই ধূলিসাৎ হবে সব অহঙ্কার।” এখন দেখার, মারুতির এই দৈব আশীর্বাদ ইভিএম-এর লড়াইয়ে কতটা ফুল ফোটায় এবং দমদমের মানুষ শেষ পর্যন্ত কার মাথায় আশীর্বাদের হাত রাখেন।

Exit mobile version