প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-অন্ধকার যখন ঘন হয়, তখন এই বাংলায় কত রকমের ফন্দি যে ডালপালা মেলে, তার ইয়ত্তা নেই। কখনো টমেটোর আড়ালে কয়লা ছোটে, তো কখনো খড়ের গাদায় লুকিয়ে ঘোরে নিষিদ্ধ কারবার। কিন্তু এবার যা ঘটল, তা দেখে খোদ দাসপুর থানার পুলিশেরও চোখ কপালে ওঠার জোগাড়! মঙ্গলবার ভোররাতের নিঝুম অন্ধকারে, মেদিনীপুরের চেনা রাস্তায় সবজির ফাঁকা প্লাস্টিক ট্রের আড়ালে লুকিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল নয়-নয়টি অবলা প্রাণ। হ্যাঁ, সবজির আড়ালে এবার খোদ জ্যান্ত গরু পাচারের এক অদ্ভুত ও নির্মম ছক বানচাল করল পুলিশ।
রাত তখন গভীর। ঘাটাল-পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কের পীরতলা এলাকায় রুটিন টহল দিচ্ছিল দাসপুর থানার পুলিশ ভ্যান। হঠাৎই দেখা যায়, একটা মিনি ট্রাক ঝড়ের গতিতে এগিয়ে আসছে। ওপর থেকে দেখলে মনে হবে, স্তরে স্তরে সাজানো রয়েছে সবজি বহনের ফাঁকা প্লাস্টিকের খাঁচা। আপাতদৃষ্টিতে খুবই স্বাভাবিক এক চেনা রাতের ছবি। কিন্তু পুলিশের অভিজ্ঞ চোখে কোথায় যেন একটা খটকা লেগেছিল। গাড়িটিকে থামার নির্দেশ দিতেই, চালক থমকে যাওয়ার বদলে এক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে।
ব্যস! রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে শুরু হয় পুলিশের ধাওয়া। কিছুটা দূরে গিয়েই ট্রাকটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে দাসপুর থানার পুলিশ বাহিনী। এরপর ওপরের সেই ফাঁকা প্লাস্টিকের খাঁচাগুলো সরাতেই বেরিয়ে পড়ে আসল সত্যিটা। কোনো আনাজপাতি নয়, বরং তীব্র অমানবিক উপায়ে, গাদাগাদি করে ভেতরে পুরে রাখা হয়েছে ৯টি জ্যান্ত গরু। পাচারের এই অভিনব ও নিষ্ঠুর কায়দা দেখে থমকে যান খোদ পুলিশ কর্মীরাও।
পুলিশের তৎপরতায় তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করা হয় ওই ৯টি গরুকে। তাদের পাঠানো হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে। আর সেই সঙ্গেই হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে ট্রাকের চালককে। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, কোথা থেকে এই অবলা পশুগুলোকে আনা হয়েছিল আর কোথায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল—তার হদিস পেতে ধৃত চালককে দফায় দফায় জেরা করছে দাসপুর থানার পুলিশ। রাতের অন্ধকারে যারা এই কারবার চালাচ্ছিল, তাদের আসল মাথাদের খোঁজে শুরু হয়েছে জোরদার তদন্ত।
