প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- সত্যিই নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ানোর পর, জেল খেটে আসার পরেও বহাল তবিয়তে এরা বাইরে বের হয় কি করে, আর বড় বড় কথা বলে কি করে? এটাই তো বড় প্রশ্ন। মানিক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মত মানুষ যে প্রবঞ্চনা যুব সমাজের সঙ্গে করেছে, তারপর জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর তারা এখন বড় বড় কথা বলছেন। সাধারণ মানুষের কারোরই তাদের প্রতি আর কোনো আগ্রহ নেই। কিন্তু কখনও কখনও দৃষ্টি রাখতে হয় তাদের গতি বৃদ্ধির দিকে। কারণ তাদের নিয়ে এমন কিছু খবর হচ্ছে বর্তমানে, এরপর যদি তাদের লজ্জা হয়, তাহলে অন্তত সকলেই খুশি হবে। কিন্তু আদৌ তাদের লজ্জা আছে কিনা, এটাই তো বড় প্রশ্ন। এই যেমন মানিক ভট্টাচার্য। নিয়োগ দুর্নীতিতে দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর এবার নিজের বিধানসভাতেই কোণঠাসা হয়েছে পড়েছেন তিনি। পরিস্থিতি এমন যে, একটি রাস্তার শিলান্যাস করতে গিয়ে তৃণমূল কর্মীদেরই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হলো তাকে। এমনকি শুনতে হলো চোর, চোর স্লোগান।
এতদিন সাধারণ মানুষের বিরক্তি ছিলো তৃণমূলের বেশ কিছু নেতা মন্ত্রীদের ওপর। যারা জেলে গিয়েছেন, যারা মানুষের চাকরি চুরি করেছেন, যারা টাকার বিনিময়ে চাকরি দিয়েছেন, তাদেরকে দুচোখে দেখতে পারছেন না পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। এমনকি এই নিয়োগ দুর্নীতির জন্য তৃণমূলকেও যে এবার ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে, সেই রকম একটি সম্ভাবনা গোটা বাংলা জুড়ে তৈরি হয়েছে। তবে শুধু সাধারণ মানুষ নয়, এবার তৃণমূল কর্মীদের অতি বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই সমস্ত দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা বিধায়করা, তা স্পষ্ট হয়ে গেল। যেখানে নিজের বিধানসভা কেন্দ্রেই তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হলো জেল খেটে আসা তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যকে।
সূত্রের খবর, এদিন নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে একটি রাস্তার শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দেন পলাশীপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য। আর তিনি যখন সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন, ঠিক তখনই বেশ কিছু তৃণমূল কর্মীরা তাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এমনকি মানিক ভট্টাচার্যের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয় চোর, চোর স্লোগান। আর এখানেই বিরোধীদের দাবি, তৃণমূল যে ক্ষমতা থেকে এবার যাচ্ছেই, এটাই তার একটা জ্বলন্ত প্রমাণ। বিরোধীদের কিছু করতে হবে না। এই মানিক ভট্টাচার্যের মত ব্যক্তিদের দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূল কর্মীরাই বিরক্ত। আর সেই কারণে তারাই এবার তলায় তলায় রাজ্যের শাসক দলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবে। এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে সেই আভাসই স্পষ্ট হচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
