Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

দিল্লির এক রায়ে স্তব্ধ কালীঘাট! জোড়াফুল ফ্রিজ হতেই সর্বোচ্চ আদালতে মমতা! এবার কী হবে?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এবার সবচেয়ে বড় আইনি এবং রাজনৈতিক মহাসংকট! জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) নজিরবিহীন অন্তর্বর্তী নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের (Supreme Court of India) দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন ৬ অক্টোবরের বিধানসভা উপনির্বাচনকে (নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর) কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে নির্বাচন কমিশন মূল দলের নাম ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ (Flowers & Grass) প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ করে দিয়েছে। এই নির্দেশিকার পরেই একপ্রকার থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কালীঘাটে। তবে দমে না গিয়ে এই নির্দেশকে ‘অবৈধ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নির্বাচন কমিশন সাময়িকভাবে উপনির্বাচনে লড়ার জন্য দুটি বিবদমান শিবিরের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠী: নতুন অন্তর্বর্তী নাম দেওয়া হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের নির্বাচনী প্রতীক ‘ফুটবল পায়ে ফুটবলার’ (Football Player)। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠী: তাদের নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ (Democratic Trinamool Congress) এবং নির্বাচনী প্রতীক দেওয়া হয়েছে ‘খাম’ (Envelope)।

নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশিকার কড়া সমালোচনা করে শীর্ষ আদালতে যাওয়ার আইনি প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন: “এই নির্দেশ সম্পূর্ণ বেআইনি। অর্ডার সম্পূর্ণভাবে বাজে। অর্ডারের মধ্যে কোনও কারণ নেই। অর্ডারে শুধু ওদের বক্তব্য দিয়েছে, আর আমাদের বক্তব্য। কেন অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিচ্ছে তার কোনও ব্যাখ্যাই দেয়নি। অর্ডার বাজে, আরও অনেককিছু গ্রাউন্ড আছে, আমরা সুপ্রিম কোর্টে যাব।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা পিটিশনে নির্বাচন কমিশনের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। তাদের মূল আইনি আপত্তির জায়গাগুলি হলো: নির্বাচন কমিশন মূল সাংগঠনিক কাঠামো ও লক্ষ লক্ষ সাধারণ কর্মীর দীর্ঘদিনের অধিকার খতিয়ে না দেখেই তড়িঘড়ি এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ চাপিয়েছে। যে সমস্ত বিদ্রোহী বিধায়কদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দলত্যাগ বিরোধী আইনের অধীনে বরখাস্তের মামলা চলছে, কমিশন কেবল তাদের বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে মূল প্রতীক কেড়ে নিয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার জরুরি শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট যদি নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাময়িকভাবে তাঁর পুরনো ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ফেরত পেতে পারেন। আর যদি আদালত স্থগিতাদেশ না দেয়, তবে আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক নিয়েই ময়দানে নামতে হবে মমতা শিবিরকে। বাংলার নজর এখন সম্পূর্ণভাবে দিল্লির সর্বোচ্চ আদালতের দিকে।

Exit mobile version