প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের বুকে সামান্য কোনো অবস্থান, আন্দোলন যদি বিরোধীরা করতে যায়, তাহলে আগেভাগেই পুলিশ দিয়ে কিভাবে তাদের আটকে দেওয়া হয়, তা গোটা রাজ্যবাসী খুব ভালো মত দেখেছেন। আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আজ মুখ্যমন্ত্রীর যাওয়ার কথা। তিনি সেখানে যাবেন, অত্যন্ত ভালো কথা। কিন্তু তার আগে বঙ্গভবনে যেভাবে এসআইআরে কিছু মানুষ মারা গিয়েছেন বলে তাদের পরিবারের কিছু মানুষকে জড়ো করা হয়েছে, তাতে দিল্লি পুলিশের কাছে হয়ত খবর রয়েছে যে, এই সমস্ত মানুষকে নিয়ে গিয়ে নির্বাচন কমিশনে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা হতে পারে। আর সেই জন্য দিল্লি পুলিশ আইন ব্যবস্থাকে সামাল দিতে আগেভাগেই সেই বঙ্গভবনে পৌঁছে গিয়েছিল সাতসকালে। অন্তত বিশেষজ্ঞরা তেমনটাই বলছেন। আর দিল্লি পুলিশ যখন বঙ্গভবনের বাইরে রয়েছে, ঠিক তখনই নিজের বাসভবন থেকে বেরিয়ে এসে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার ফলে পাল্টা প্রশ্ন উঠছে যে, মুখ্যমন্ত্রী কেন এত অস্থির হয়ে যাচ্ছেন? কেন তিনি এত টার্গেট করছেন কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপিকে?
এদিন মুখ্যমন্ত্রী খবর পান যে, বঙ্গভবনের বাইরে প্রচুর দিল্লি পুলিশের টিম জড়ো হয়েছে। এমনকি সেখানে ব্যারিকেড করা হয়েছে। আর সেই খবর পেয়েই রাতারাতি নিজের বাসভবন থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। স্পষ্ট ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, বঙ্গভবনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “সকাল থেকে বঙ্গভবন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ দিয়ে ভর্তি করে দিলো। ঘরে ঘরে তল্লাশি চালাচ্ছে। এটা দিল্লি পুলিশ করতে পারে না। এসআইআরের জন্য মৃতদের পরিবারের লোকজন আমাদের সঙ্গে এসেছেন। তারা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চরাতে এখানে এসেছেন। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, আপনি বাংলায় আসলে রেড কার্পেট পেতে রাখি। আর আমরা দিল্লিতে আসলে কালো কার্পেট?”
তবে মুখ্যমন্ত্রী যখন এমন কথা বলছেন, তখন পাল্টা যুক্তি দিতে শুরু করেছে বিজেপির ঘনিষ্ঠ মহল। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে উনি গিয়ে ওনার দাবি-দাওয়া জানাতেই পারেন। কিন্তু সেখানে উনি হট্টগোল করার যদি চেষ্টা করেন এবং সেই খবর যদি প্রশাসনের কাছে থাকে, তাহলে প্রশাসন কেন নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে না? বঙ্গভবনে উনি মানুষকে জড়ো করে তাদের নিয়ে গিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে, এটাই স্বাভাবিক। আর যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে এত বড় বড় কথা বলছেন, অমিত শাহকে টার্গেট করছেন, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সরকার থাকাকালীন পশ্চিমবঙ্গে আদৌ কি বিরোধীদের কোনো মিটিং, মিছিল করতে দেন? যেভাবে কোনো ব্যক্তি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই তার বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে দেন, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ থেকে অন্তত দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে এবং অমিত শাহের বিরুদ্ধে এই ধরনের সমালোচনা মানায় না বলেই দাবি গেরুয়া শিবিরের ঘনিষ্ঠ মহলের।
