প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-প্রতিবাদের নামে দেশের রাজধানী দিল্লিকে অচল করে দেওয়ার এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে বুড়ো আঙুল দেখানোর এক হঠকারী ও রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত রুখতে এবার চূড়ান্ত কড়া ও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিল প্রশাসন। আগামীকাল, ১০ অক্টোবর ২০২৬ (শনিবার) দিল্লিতে তথাকথিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) এবং বেশ কিছু উগ্রপন্থী ছাত্র সংগঠনের ডাকা বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর কর্মসূচিকে শুক্রবার রাত থেকেই সম্পূর্ণ পঙ্গু করে দেওয়ার মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে ভারতীয় রেল এবং দিল্লি পুলিশ। ভোটার তালিকা সংশোধন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের অবাস্তব দাবিকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক যাতায়াত ও দেশের লাইফলাইন রেল পরিষেবাকে যেভাবে ‘বন্ধক’ রাখার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছিল, তার কোমর ভেঙে দিতে এবার বিন্দুমাত্র রেয়াত না করার নীতি নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। উগ্র বিক্ষোভকারীদের জব্দ করতে এবং রাজধানীতে কোনোভাবেই অরাজকতা বরদাস্ত না করার এই পুলিশি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপকে ইতিমধ্যেই সাধুবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ নাগরিকরা।
রেলওয়ের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টে পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জন্য নয়াদিল্লি (NDLS) এবং হজরত নিজামুদ্দিন (NZM) রেলওয়ে স্টেশনে কোনও দূরপাল্লার মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেন প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। সম্পূর্ণ উৎসস্থল (Source) থেকেই ট্রেনগুলিকে বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টেশনের চারপাশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ট্রাফিকের চরম জট রুখতে এই আগাম পদক্ষেপ আন্দোলনকারীদের সমস্ত ছক বানচাল করে দিয়েছে। এই কঠোর সুরক্ষাকবচের অংশ হিসেবে আজ, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত বা বিকেল থেকে রওনা হতে যাওয়া বহু ভিভিআইপি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হাওড়া-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস (12301) এবং শিয়ালদহ-নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস (12313)। যদিও এই ট্রেন বাতিলের কারণে সাধারণ যাত্রীরা সাময়িক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তবুও স্টেশনে আটকে পড়ে উগ্র জনতা দ্বারা হেনস্থা বা রেলের সম্পত্তি ধ্বংসের মতো চরম অরাজকতার শিকার হওয়ার চেয়ে প্রশাসনের এই আগাম নিরাপত্তামূলক সিদ্ধান্তকে বহু ভুক্তভোগী যাত্রীই সঠিক ও ইতিবাচক বলে মনে করছেন। এক ক্ষুব্ধ যাত্রীর বয়ানে, “মুষ্টিমেয় কিছু বিক্ষোভকারীর খামখেয়ালিপনার জন্য কেন গোটা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধক থাকবে? প্রশাসন এদের প্ল্যাটফর্মে পা রাখতে না দিয়ে যোগ্য জবাব দিয়েছে।”
বিক্ষোভকারীদের বিশৃঙ্খল জমায়েত এবং সংবেদনশীল এলাকায় উগ্র জনতার ছড়িয়ে পড়া রুখতে দিল্লি পুলিশ অত্যন্ত কড়া এবং আক্রমণাত্মক রণকৌশল নিয়েছে। দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC)-কে দেওয়া কড়া নির্দেশিকায় ৫৭টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের এন্ট্রি ও এক্সিট গেট আজ শুক্রবার রাত ৯টা থেকেই সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, নয়াদিল্লি, কাশ্মীরি গেট ও আইটিও-র মতো মেগা ইন্টারচেঞ্জ স্টেশনগুলি বন্ধ থাকায় বিক্ষোভকারীরা কোনোভাবেই মেট্রোর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে রাজধানীর বুকে বিশৃঙ্খলা ছড়াতে পারবে না। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দাবি, অতীতে আন্দোলনের নামে যেভাবে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করার নজির রয়েছে, তা মাথায় রেখে উগ্রপন্থীদের জব্দ করার জন্য মেট্রোর এই গেট লকডাউন করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দূরদর্শী ও প্রশংসনীয়।
দিল্লি পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার নূপুর প্রসাদ ইতিমধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ১০ অক্টোবরের এই প্রতিবাদের জন্য CJP বা আন্দোলনকারীদের কোনও আইনি অনুমতি দেওয়া হয়নি। পূর্বের আন্দোলনের শর্ত লঙ্ঘন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ট্র্যাক রেকর্ডের কারণেই এবার কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সরাসরি পারমিশন নাকচ করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, দিল্লিকে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে ট্রেনে ও বাসে করে বিশাল উগ্র জমায়েত আনার ছক কষা হয়েছিল। সেই দেশবিরোধী ছক বানচাল করতে ইতিমধ্যেই তেলেঙ্গানা, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান সীমান্তে এবং বিভিন্ন দূরপাল্লার ট্রেনে তল্লাশি চালিয়ে বহু সন্দেহভাজন বিশৃঙ্খলাকারীকে আটক করা হয়েছে। দিল্লির স্পর্শকাতর এলাকায় প্রায় ২৩,০০০ আধা সামরিক বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করা হয়েছে এবং দিল্লির বড় বড় স্টেডিয়ামগুলিকে অস্থায়ী আটক কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে আইন অমান্য করলেই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া যায়। সব মিলিয়ে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে রাজনীতি করার এই নৈরাজ্যবাদী মানসিকতাকে সমূলে উপড়ে ফেলতে এবং আন্দোলনকারীদের জব্দ করতে প্রশাসন যে অত্যন্ত কড়া ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা রাজধানীর বুকে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক বিরাট মাইলফলক।
