প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রাজধানী দিল্লির জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক দিন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ (Digital India) মিশনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। SIR-এর সাফল্যের পর এবার দিল্লির প্রতিটি গলিতে, প্রতিটি বাড়িতে কড়া নাড়বে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি দল। শুরু হতে চলেছে বহুপ্রতীক্ষিত ‘জনগণনা ২০২৭’-এর প্রথম ধাপ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দিল্লির আকাশ-বাতাসে এখন সাজ সাজ রব।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে দিল্লির নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় শুরু হবে ‘হাউস লিস্টিং অপারেশন’ (HLO)। এনডিএমসি (NDMC) ও দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রথম এক মাস (১৫ মে পর্যন্ত) এই কাজ চলবে। এরপর ১৬ মে থেকে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (MCD) এলাকায় কাজ শুরু হবে। এটি শুধুমাত্র একটি গণনা নয়, বরং আগামী এক দশকের উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর।
আগেকার মত আর ফাইল বা কাগজের বান্ডিল নিয়ে ঘুরতে দেখা যাবে না গণনাকারীদের। মোদী সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোকের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ই-সেনসাস’ বা ডিজিটাল জনগণনা। গণনাকারীদের হাতে থাকবে সরকারি মোবাইল অ্যাপ, যেখানে সরাসরি তথ্য আপলোড করা হবে। এতে তথ্যের সুরক্ষা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনই জালিয়াতি রুখে দেওয়া সম্ভব হবে। যারা প্রযুক্তিপ্রেমী, তাদের জন্য রয়েছে, ‘সেলফ-এনিউমারেশন’ (Self-Enumeration) পোর্টাল। অর্থাৎ আপনি চাইলে গণনাকারী আসার আগেই ১ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে অনলাইনে নিজের তথ্য জমা দিয়ে দিতে পারেন। ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে নাগরিকদের।আপনার বাড়ির দরজায় যখন মোদী সরকারের প্রতিনিধিরা হাজির হবেন, তখন আপনাকে মূলত আপনার ঘরবাড়ির অবস্থা এবং সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত ৩৩টি প্রশ্ন করা হবে। আপনার বাড়িতে পানীয় জলের উৎস কী? শৌচাগারের সুবিধা আছে কি না? বাড়িতে স্মার্টফোন, গাড়ি বা টেলিভিশন আছে কি না—এমনই কিছু মৌলিক বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই জনগণনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে অনেক সময় বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। কিন্তু কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপনার পরিচয় বা নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য কোনো প্রকার নথি (Documents) গণনাকারীদের দেখাতে হবে না। নাগরিকরা যা তথ্য দেবেন, তার ওপর ভিত্তি করেই এই ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি হবে। এটি মূলত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বুঝে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।
জাতীয়তাবাদী মহলের মতে, এই ডিজিটাল গণনার মাধ্যমে দিল্লির প্রকৃত জনসংখ্যার একটি স্বচ্ছ চিত্র উঠে আসবে। এর ফলে দিল্লিতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বা অনুপ্রবেশ কারীদের শনাক্ত করা অনেক সহজ হবে। সরকারি প্রকল্পের টাকা যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত ভারতীয়রাই পান, তা নিশ্চিত করতে এই ডিজিটাল ডাটাবেস আগামীর দিনে এক ‘গেম চেঞ্জার’ হতে চলেছে।
মোদী সরকারের এই ডিজিটাল অভিযান ভারতকে ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ করে তোলার একটি বড় ধাপ। দিল্লির বাসিন্দারা এখন সেই ডিজিটাল বিপ্লবের সাক্ষী হতে প্রস্তুত। ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়াটি শেষ হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মূল জনসংখ্যা গণনার মাধ্যমে। রাজধানী দিল্লির পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এই ঢেউ আছড়ে পড়বে।
