প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সংসদীয় রাজনীতিতে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে জোড়া কক্ষেই তৃণমূলের আনা ইমপিচমেন্ট বা অপসারণের প্রস্তাব খারিজ করে দিলেন লোকসভার স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান। সোমবার সংসদের এই সিদ্ধান্তের ফলে তৃণমূল তথা ইন্ডিয়া জোটের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্রের খবর, লোকসভা এবং রাজ্যসভা তৃণমূলের দেওয়া নোটিশটি খতিয়ে দেখে তা গ্রহণে অসম্মতি জানায়। সংসদীয় সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবটিতে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ বা যথাযথ আইনি ভিত্তি না থাকায় তা সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী ধোপে টেকেনি। উল্লেখ্য, কোনো সাংবিধানিক পদাধিকারীর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনতে গেলে যে কঠোর নিয়নাবলী পালন করতে হয়, তৃণমূলের প্রস্তাবে তার অভাব ছিল বলেই সংসদীয় মহলের ধারণা।
এই ঘটনার পরেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে কালিমালিপ্ত করতেই তৃণমূল এই ধরনের “সস্তার রাজনীতি” করছে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, যখনই কোনো প্রতিষ্ঠান নিরপেক্ষভাবে কাজ করে এবং তাতে তৃণমূলের স্বার্থে আঘাত লাগে, তখনই তারা সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, বাংলার শাসক দল আসলে আসন্ন নির্বাচনগুলিতে হারের ভয় থেকেই নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছিল। কিন্তু সংসদের এই কড়া পদক্ষেপে তাদের সেই রণকৌশল পুরোপুরি ব্যর্থ হলো।
অন্যদিকে, সংসদীয় সচিবালয় কোনো কারণ না দেখিয়েই প্রস্তাব খারিজ করেছে— এই অভিযোগে সরব হয়েছে ঘাসফুল শিবির। একে ‘গণতন্ত্রের লজ্জা’ বলে বর্ণনা করেছেন তৃণমূলের সংসদীয় দলের একাংশ। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, নিয়ম না মেনে এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাব থাকলে সংসদের উচ্চপদস্থ কর্তারা তা খারিজ করতে বাধ্য হন, যা এ ক্ষেত্রেও ঘটেছে। এই প্রত্যাখ্যানের ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কতটা কোণঠাসা হলো, এখন সেটাই দেখার।
