প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশজুড়ে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET-এর প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়ে পদত্যাগ করার পর অবশেষে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন বিদায়ী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘X’-এ (সাবেক টুইটার) একটি বিস্তারিত ও আবেগঘন বিবৃতির মাধ্যমে তিনি তাঁর ইস্তফার আসল কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
ইস্তফা দেওয়ার পর নিজের প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়ায় ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান যে, গত ১০ দিন ধরে দেশে চলমান ঘটনাপ্রবাহ ও অসন্তোষ তাঁকে মানসিকভাবে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। তিনি দেশের ছাত্রসমাজকে নিজের “তরুণ বন্ধু” হিসেবে সম্বোধন করে তাঁর ইস্তফাপত্রে এবং সামাজিক মাধ্যমে আরও লিখেছেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভাষায়, “এটি আমার কোনো ব্যক্তিগত সম্মান বা ইগোর লড়াই নয়। ভারতের যুবশক্তিই এই দেশের আসল শক্তি। আমি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ যে দেশের যুবসমাজকে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা সংশয়ের বেড়াজালে আটকে যেতে দেব না।” তিনি চান না যে দেশের হাজার হাজার প্রতিভাবান শিক্ষার্থী তাঁদের পড়াশোনা ও কেরিয়ারের সোনালী সময় নষ্ট করে এই দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতার মধ্যে জড়িয়ে পড়ুক। তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ এবং পড়াশোনায় মন দেওয়া নিশ্চিত করাই তাঁর প্রথম লক্ষ্য। নিজের পদত্যাগের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে প্রধান উল্লেখ করেছেন যে, যন্তর মন্তর সহ সারা দেশে যে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ যেন কোনো “দেশবিরোধী শক্তি” (Anti-national forces) নিজেদের স্বার্থে নিতে না পারে। দেশের একতা ও অখণ্ডতা বজায় রাখতেই তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নিজের বিদায়ী বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের শিক্ষা মন্ত্রকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে দেশের সেবা করার সুযোগ পাওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। একই সাথে তিনি তাঁর মন্ত্রিসভার সহকর্মী, মন্ত্রকের কর্মকর্তা ও কর্মীদের তাঁদের অবিরত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই পদত্যাগের পর বিরোধী শিবিরের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম তাঁর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এর ফলে এবার সংসদ এবং সাধারণ মানুষের সামনে NEET পরীক্ষা বিতর্ক ও শিক্ষা ব্যবস্থার দায়বদ্ধতা নিয়ে একটি গঠনমূলক ও স্বচ্ছ আলোচনার পথ উন্মুক্ত হবে। শিক্ষামন্ত্রীর এই ইস্তফা এবং তাঁর এই পরবর্তী মন্তব্য আগামী দিনে দেশের শিক্ষানীতি ও ছাত্র রাজনীতিতে একটি বড় মাইলফলক হতে চলেছে।
