Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ধেয়ে আসছে মোদী-ঝড়! ৪৬ দিনের মাথায় বাংলার সরকারি কর্মীদের পকেটে উপচে পড়বে টাকা? বেকারদের জন্য খুলছে কুবেরের ভাণ্ডার!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আজ পূর্বস্থলীর জনসভা থেকে বাংলার শাসক শিবিরের পায়ের তলা থেকে মাটি সরিয়ে দেওয়ার মত এক মহাপ্রলয়ের সংকেত দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’-কে ঢাল করে প্রধানমন্ত্রী আজ যে হুঙ্কার ছাড়লেন, তাতে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। পূর্বস্থলীর তপ্ত রোদে দাঁড়িয়ে মোদী স্পষ্ট করে দিলেন—বিজেপি ক্ষমতায় আসা মানেই হবে নিয়োগের মহোৎসব এবং সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান।

পূর্বস্থলীর সভা থেকে রাজ্যের কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারীর উদ্দেশ্যে সবথেকে বড় ‘বোমা’ ফাটিয়েছেন মোদী। বকেয়া ডিএ (DA) এবং সপ্তম বেতন কমিশনের আশায় চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকা কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, ডাবল ইঞ্জিন সরকার গঠিত হওয়ার মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে বাংলায় সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে। অর্থাৎ, সরকার গঠনের দেড় মাসের মাথায় কর্মীদের বেতন এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে, যা বর্তমান জমানায় কার্যত অসম্ভব ছিল।

শুধুমাত্র সরকারি চাকরি নয়, যতদিন না চাকরি হচ্ছে, ততদিন বেকার যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়ানোর গ্যারান্টি দিয়েছেন মোদী। আজ পূর্বস্থলীর মঞ্চ থেকে তিনি ঘোষণা করেন, রাজ্যের বেকারদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা ভাতা নিশ্চিত করা হবে। এর পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এককালীন ১৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। মোদীর এই ঘোষণা রাজ্যের কোটি কোটি তরুণ ভোটারের মন জয় করতে যথেষ্ট বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

গত কয়েক বছরে বাংলায় নিয়োগ দুর্নীতিতে যারা সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী আজ বড় ঘোষণা করেছেন। দুর্নীতির কারণে যাদের চাকরির বয়স পেরিয়ে গিয়েছে, বিজেপি সরকার তাদের জন্য বয়সে বিশেষ ছাড় দেবে। অর্থাৎ, দুর্নীতির শিকার হওয়া যোগ্য প্রার্থীরা ফের লড়াই করার এবং সরকারি চাকরি পাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “যাদের ভবিষ্যৎ লুট করা হয়েছে, তাদের বিচার আমরা দেবই।”

রাজ্যে কয়েক লক্ষ শূন্যপদ পড়ে থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে আছে। পূর্বস্থলীর সভা থেকে মোদী গ্যারান্টি দিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই প্রতিটি শূন্যপদে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ করা হবে। দিল্লির ধাঁচে বাংলাতেও নিয়মিত ‘রোজগার মেলা’ আয়োজন করে হাজার হাজার নিয়োগপত্র একসাথে তুলে দেওয়া হবে যুবকদের হাতে।

পূর্বস্থলীর জনসভা থেকে মোদীর এই রণহুঙ্কার এবং ইশতাহারের ‘গ্যারান্টি’ এক লহমায় বাংলার রাজনৈতিক ছবি বদলে দিয়েছে। একদিকে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি কর্মী, অন্যদিকে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা হতাশ যুবসমাজ—উভয় পক্ষই এখন মোদীর এই ‘মহানিয়োগ’ ও ‘মহাভাতার’ ঘোষণার দিকে তাকিয়ে। এই চমকপ্রদ ইশতাহার কি পারবে নবান্নের তখ্ত উল্টে দিতে? উত্তর দেবে সময়।

Exit mobile version