Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ধর্মীয় আবহে শুভেন্দুর বড় পদক্ষেপ: শিব মন্দিরে আশীর্বাদ নিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে চললেন জননেতা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বসন্তের তপ্ত রোদেও আজ মেদিনীপুরের বাতাসে এক আধ্যাত্মিক স্নিগ্ধতা। আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যার অপেক্ষায় ছিল গোটা বাংলার রাজনৈতিক মহল। বিধানসভা নির্বাচনের মহাযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার আগে, বাংলার ভূমিপুত্র তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আজ এক অনন্য ভক্তিপূর্ণ আবহে নিজের জয়যাত্রা শুরু করলেন। রাজনীতির ময়দানে লড়াইয়ের হুঙ্কার দেওয়ার আগে তিনি বেছে নিলেন ভোলেনাথের শরণ। আজ সকালে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে মন্দিরে পুজো দিয়ে পরমেশ্বরের আশীর্বাদ চাইলেন।

সোমবারের সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই শুভেন্দু অধিকারী পৌঁছে যান নন্দীগ্রামের অত্যন্ত জাগ্রত ও প্রাচীন রেয়াপাড়া শিব মন্দিরে। পরনে ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি এবং কাঁধে গেরুয়া উত্তরীয়—একনিষ্ঠ ভক্তের বেশে মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করেন তিনি। পুরোহিতের বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের অনুরণনের মাঝে ভক্তিভরে দেবাদিদেব মহাদেবের জলাভিষেক সম্পন্ন করেন জননেতা। দীর্ঘ সময় চোখ বন্ধ করে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় শিবলিঙ্গে বেলপাতা অর্পণ ও আরতি করার সময় তাঁর চোখেমুখে ছিল এক প্রশান্ত অথচ দৃঢ় সংকল্পের ছাপ। রেয়াপাড়ার এই পবিত্র মন্দির প্রাঙ্গণ তখন “হর হর মহাদেব” এবং “জয় শ্রী রাম” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। উপস্থিত সাধারণ ভক্তরা তাঁদের প্রিয় ‘দাদা’কে এই আধ্যাত্মিক মগ্নতায় দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারী বরাবরই বিশ্বাস করেন যে কোনো বড় লড়াইয়ের আগে ঈশ্বরের আশীর্বাদই হলো পরম শক্তি। রেয়াপাড়া মন্দিরে পুজো দিয়ে তিনি কেবল নিজের আধ্যাত্মিক সত্তাকেই তুলে ধরেননি, বরং কোটি কোটি সনাতনী মানুষের অটুট বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মন্দির থেকে বেরিয়ে তিনি উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন। তাঁর এই বিনম্র ভঙ্গি এবং সাধারণের সাথে মিশে যাওয়ার সহজাত প্রবৃত্তি আরও একবার প্রমাণ করল কেন তিনি বাংলার মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় আসীন। তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মৃদু হেসে বলেন, “মহাদেব সত্যের রক্ষক, তাঁর চরণে মাথা ঠেকিয়ে আজ নতুন লড়াইয়ের শক্তি পেলাম।”

রেয়াপাড়া থেকে পুজো সেরে বেরিয়েই তিনি রওনা হন হলদিয়ার মহকুমা শাসকের দপ্তরের উদ্দেশ্যে। রাস্তার দু’পাশে কাতারে কাতারে মানুষের ভিড়, হাতে পদ্ম পতাকা আর ফুলের পাপড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার অনুরাগী—এক ঐতিহাসিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা শিল্পাঞ্চল। শুভেন্দুর এই মনোনয়ন পেশ কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি বাংলার শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের এক মহাযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মহাদেবের আশীর্বাদপুষ্ট এই যোদ্ধা আজ যে আত্মবিশ্বাসের সাথে ময়দানে নামলেন, তা বিরোধীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট। জনসমুদ্রের সেই উত্তাল ঢেউ যেন বলে দিচ্ছিল, মেদিনীপুরের মাটি আজ ঘরের ছেলেকে দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করতে প্রস্তুত।

শিবের আশীর্বাদ আর অগণিত মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা সাথে নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী আজ যে যাত্রার সূচনা করলেন, তা বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা মাইলফলক হয়ে থাকবে। রেয়াপাড়ার মন্দির থেকে সংগৃহীত আধ্যাত্মিক শক্তি আর কোটি কোটি মানুষের অকৃত্রিম সমর্থনই আজ তাঁর সবথেকে বড় কবচ। রাজনীতির এই জটিল দাবার বোর্ডে ভক্তি আর শক্তির এই মেলবন্ধন আগামীর বৈতরণী কতটা গৌরবের সাথে পার করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, রেয়াপাড়ার মহাদেবের চরণে মাথা ঠেকিয়ে শুভেন্দু আজ যে জয়ের সংকল্প নিয়েছেন, তা বাংলার বুকে এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Exit mobile version