Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

দিল্লিতে বড়সড় অশান্তির ছক বানচাল! পুলিশের কড়া অ্যাকশনে খাঁচাবন্দি ড্রামা-কিং ধ্রুব রাঠি!

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশের রাজধানী দিল্লিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার এবং উস্কানিমূলক জমায়েতের মাধ্যমে বড়সড় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর এক গভীর অপচেষ্টা গোড়াতেই গুঁড়িয়ে দিল পুলিশ প্রশাসন। তথাকথিত “ককরোচ জনতা পার্টি” (CJP) নামের একটি সংগঠনের আড়ালে দিল্লির বুকে যে চরম অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছিল, আজ তা পুরোপুরি ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) সকালে দিল্লির যন্তর মন্তরে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং বিনা অনুমতিতে বিক্ষোভ দেখানোর উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগেই, গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৫৬-এর ফ্ল্যাট থেকে পুলিশি তৎপরতায় আটক করা হয়েছে বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার তথা ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে। প্রশাসনের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে এবং আইনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উস্কানিমূলক প্রচার চালানোর অপরাধেই পুলিশ এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ (Preventive Custody) নিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশি রিপোর্ট অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের অবান্তর ও ভিত্তিহীন দাবি তুলে দিল্লির বুকে এক চরম অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির ডাক দিয়েছিল ভুুঁইফোড় সংগঠন CJP। এই উদ্দেশ্যে জার্মানি থেকে উড়ে এসে এই উস্কানিতে সরাসরি যোগ দেন ধ্রুব রাঠি। দিল্লির বুকে যেকোনো বড় ধরনের অশান্তি রুখতে পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা (প্রাক্তন ১৪৪ ধারা) জারি করে সব ধরনের বেআইনি জমায়েত নিষিদ্ধ করেছিল। এই কর্মসূচির কোনো আইনি অনুমতিও ছিল না। গুরগাঁও পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, “পুলিশের পক্ষ থেকে ধ্রুব রাঠিকে স্পষ্ট ভাষায় বোঝানো হয়েছিল যে দিল্লির যন্তর মন্তরে ওই জমায়েতের কোনো সরকারি বা আইনি অনুমতি নেই, তাই তিনি যেন সেখানে না যান। কিন্তু আইনের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা না দেখিয়ে, তিনি লাগাতার সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানিমূলক পোস্ট করতে থাকেন এবং আইনি নিষেধাজ্ঞা ভাঙার জেদ ধরে রাখেন” ফলস্বরূপ, শনিবার সকালে গুরগাঁও এবং দিল্লি পুলিশের যৌথ দল কোনো ঝুঁকি না নিয়ে উস্কানিদাতাকে তাঁর বাড়ি থেকেই প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেয়।

ধ্রুব রাঠির এই আটকের খবর সামনে আসতেই তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে সচেতন নাগরিক মহলে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—যিনি সারা বছর সুদূর জার্মানির নিরাপদ আশ্রয়ে বসে দেশের আইন ও গণতন্ত্র নিয়ে লম্বা চওড়া ‘জ্ঞান’ বিতরণ করেন, তিনি দেশে এসেই কেন ভারতের পুলিশ, প্রশাসন ও দেশের প্রচলিত আইনকে অমান্য করতে সাধারণ তরুণদের উস্কে দিচ্ছেন? নেটপাড়ার একাংশের দাবি, সাধারণ যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করে সস্তা ভিউ ও নিজস্ব রাজনৈতিক এজেন্ডা চরিতার্থ করতেই এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র মতো সংগঠনের আড়ালে সস্তা ড্রামাবাজি ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছিল। দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো সংবেদনশীল ও সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়াকে কালিমালিপ্ত করতে এই ধরণের বিক্ষোভ আদতে ভারতের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে আন্তর্জাতিক স্তরে হেয় করারই এক সুপরিকল্পিত হাতিয়ার।

দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, রাজধানীর শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কোনো রকম আপস করা হচ্ছে না। ধ্রুব রাঠির আটক হওয়ার পাশাপাশি CJP-র মূল উস্কানিদাতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লি বিমানবন্দরে পা রাখামাত্রই বিমানেই তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। এছাড়া সংগঠনের আইনি প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয়েছে। যন্তর মন্তর চত্বর ও দিল্লির সীমান্তগুলিতে কড়া ব্যারিকেড ও ড্রোন নজরদারি চালিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন বহিরাগত বিশৃঙ্খলাকারীকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর বুকে কোনো অপশক্তিকেই যে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না, পুলিশের এই কড়া ও সময়োপযোগী অ্যাকশন থেকেই তা অত্যন্ত পরিষ্কার।

Exit mobile version