Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

দিদির বিদায় ঘণ্টা? হুমায়ুন কবীরের হুঙ্কার— ‘বড় দাদা’ ওয়েইসিকে সাথে নিয়ে মমতাকে হারাবই!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ এক নাটকীয় মোড় নিল। এতদিন ধরে যে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংককে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপরাজেয় শক্তির উৎস বলে মনে করা হত, সেখানে সরাসরি থাবা বসাতে ময়দানে নামলেন হুমায়ুন কবীর এবং হায়দ্রাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। আজ এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে হুমায়ুন কবীর যে হুঙ্কার দিলেন, তাতে নবান্নের অন্দরে চিন্তার ভাঁজ পড়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সাংবাদিক সম্মেলনে হুমায়ুন কবীর অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ভাষায় আসাদউদ্দিন ওয়েইসিকে নিজের ‘বড় দাদা’ এবং ‘অভিভাবক’ বলে সম্বোধন করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, “এই সম্পর্ক আজীবন থাকবে। আমি যতদিন বাঁচব এবং আমার পার্টি যতদিন থাকবে, এই জোট অটুট থাকবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই জোট কেবল নির্বাচনী স্বার্থে নয়, বরং তৃণমূলের ‘মুসলিম তোষণ’ রাজনীতির একচেটিয়া অধিকারে ভাগ বসানোর এক সুপরিকল্পিত চাল। কবীর স্বীকার করেছেন যে, তাঁর ডাকেই ওয়েইসি বাংলায় লড়াই করতে এসেছেন এবং হাজারো বাধা ও কটাক্ষ সত্ত্বেও তাঁরা পিছিয়ে যাননি।

হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, ২২ তারিখের প্রার্থী তালিকায় ইতিমধ্যেই কিছু নাম দেওয়া হয়েছে এবং বাকি প্রার্থীদের নাম ওয়েইসির সঙ্গে চূড়ান্ত পরামর্শ করে আজই প্রকাশের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের এই জোটের লক্ষ্য পরিষ্কার—তৃণমূলের ভোট ব্যাংকে ধস নামানো। যদি সংখ্যালঘু ভোট এই জোটের দিকে সরে যায়, তবে তার সরাসরি সুবিধা পাবে বিজেপি। কারণ, মুসলিম ভোট ভাগ হওয়া মানেই তৃণমূলের জেতার ব্যবধান একধাক্কায় কমে যাওয়া।

বিজেপি বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তোষণের রাজনীতি করছেন। এবার যখন প্রভাবশালী সংখ্যালঘু নেতারাই তৃণমূলকে ‘পরাস্ত’ করার ডাক দিচ্ছেন, তখন তা প্রমাণ করে যে তৃণমূলের নিজের ঘরেই বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। বিজেপি বিরোধী ভোট যখন তৃণমূল এবং এই নতুন জোটের মধ্যে বিভক্ত হবে, তখন পদ্ম শিবিরের পক্ষে অনেক কঠিন আসন বের করে আনা সহজ হবে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরের মত জেলায় যেখানে মুসলিম ভোট নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। হুমায়ুন কবীর সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন যে, “বাংলায় মমতার সরকার পরাস্ত হবে।” এই আত্মবিশ্বাস গেরুয়া শিবিরের সমর্থকদের বাড়তি অক্সিজেন দিচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার হঠানোর লক্ষ্যে এই নতুন জোট কতটা সফল হবে, তা সময় বলবে। তবে হুমায়ুন কবীর ও ওয়েইসির এই ‘অটুট’ বন্ধন যে বাংলার নির্বাচনের ময়দানে তৃণমূলকে কোণঠাসা করার জন্য যথেষ্ট, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একদিকে জাতীয়তাবাদী ভাবাবেগ নিয়ে বিজেপির প্রচার, আর অন্যদিকে তৃণমূলের ঘরোয়া ভোটে ভাঙন—সব মিলিয়ে বাংলার মসনদ পরিবর্তনের লড়াই এবার এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Exit mobile version